মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় অতি পরিচিত ‘রেফার’ সংস্কৃতি ও রোগীদের হয়রানি রুখতে ‘পইপই’ করে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু খোদ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালেই মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রমরমিয়ে চলছিল দালাল-রাজ। এই বেহাল দশার খবর ফাঁস হতেই সোমবার নড়েচড়ে বসল নবান্ন। তড়িঘড়ি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সুপার ডাঃ অঞ্জন অধিকারীকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, অপসারিত সুপারকে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডাঃ অঞ্জন অধিকারীর জায়গায় আপাতত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধ্যাপক (ডাঃ) শান্তনু সেনকে। মেডিক্যাল কলেজের জেনারেল সার্জারি বিভাগে কর্মরত তিনি।
প্রসঙ্গত, দায়িত্ব নেওয়ার পরই এসএসকেএম হাসপাতালে স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিক এবং কলকাতার ১২টি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও সুপারদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ন্যূনতম সুযোগ থাকলেও কোনও রোগীকে ফেরানো চলবে না। কিন্তু কলকাতা মেডিক্যালে যে পরিস্থিতি বিন্দুমাত্র বদলায়নি, তা সরেজমিনে হাসপাতাল চত্বরে ঘুরতেই হাতেনাতে ধরা পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে হাসপাতালের নাকের ডগায় এমন সিন্ডিকেট রাজ চলতে পারে, তা নিয়ে নবান্নের অন্দরেও তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। এর পরেই সোমবার তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করে সুপারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয় স্বাস্থ্য দফতর।
আরও পড়ুন- উন্নয়ন, শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর, ১১ জুন নীতি আয়োগের বৈঠকে দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী
_
_
_

_

_

_

_

_

