আবেগে, চোখের জলে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Rahul Arunoday Banerjee) চির বিদায় দিল কলকাতা। সিনেমা ,সাহিত্য, সঞ্চালনার ,মতোই খেলাধুলার প্রতিও ছিল রাহুলের চিরকালীন টান। ফুটবলের অন্ধ ভক্ত। হৃদয় জুড়ে ইস্টবেঙ্গল(East bengal), বার্সেলোনা, আর্জেন্টিনা (Argentina)। রাহুলের(Rahul Arunoday Banerjee) শেষ যাত্রাতে মিলে মিশে একাকার লাল হলুদ-নীল সাদা।

দুপুরেই রাহুলের নীথর দেহ আসে বিজয়গড়ের বাড়িতে। রাজনীতির চেনা মুখ থেকে সেলুলয়েডের তারকা, রাহুল মিলিয়ে দিলেন সবাইকে। বিদায় বেলায় রাহুলের সঙ্গী প্রিয় লাল হলুদ পতাকা আর মেসিদের নীল সাদা জার্সি। রাহুল শুধু প্রতিভাবান অভিনেতা নন, একজন ক্রীড়াপ্রেমী। শেষ বসন্তে ময়দানের গাছ থেকে ঝড়ে যাচ্ছে পাতা। শিমূল-পলাশ পড়ে রয়েছে অনাদারে অবহেলায়। পাতা ঝড়ার মরশুমে বর্তমান থেকে অতীতের ভিড়ে মিশে গেলেন সর্বজন প্রিয় রাহুল। ময়দানের গ্যালারি হারাল এক প্রকৃত দর্শককে।

সকালেই ইস্টবেঙ্গলের পক্ষ থেকে শোকবার্তা দেওয়া হয়েছিল। রাহুলকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বাড়িতে গেলেন ইস্টবেঙ্গলের কর্তারা। চির নিদ্রায় রাহুল, শবদেহের উপরে লাল হলুদ পতাকা। সঙ্গে লাল হলুদ গোলাপ। ইস্টবেঙ্গলের শোক বার্তায় লেখায় হয়েছে, ‘অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে আমরা সকলেই শোকস্তব্ধ। গোটা জীবন উনি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন।’

বাড়ি থেকে শবদেহ শকট পৌছে গেল সোজা কেওড়াতলা, সঙ্গী আর্জেন্টিনার জার্সি। প্রিয় বাবিন ছোট থেকে মারাদোনা মেসির ভক্ত। পঞ্চভূতে বিলীন হওয়ার আগে পর্যন্ত রাহুলের সঙ্গী থাকল প্রিয় নীল সাদা জার্সি। ছোট বেলা বিশ্বকাপ এলেই পাড়া মোড়ে তুলতেন আর্জেন্টিনার পতাকা। ইস্টবেঙ্গল ভক্ত হলেও সিনেমা করতে চেয়েছিলেন মোহনবাগানের ১৯১১ সালের শিল্ড জয় নিয়ে। চিত্রনাট্যও লিখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেটা হয়নি।

শুধু ফুটবল নয় ইডেনেও ছিল রাহুলের গন্তব্য তালিকায়। নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে কেকেআরের তরফ থেকে লেখা হয়, “রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর প্রিয়জনদের প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল।” রাহুলের অকাল প্রয়ানে গভীর শোকে ময়দানও।

–

–

–

–

–
