বাংলায় গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে এঁটে উঠতে না পেরে কি এবার কেন্দ্রীয় সংস্থাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি? বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দিল্লি, হায়দরাবাদ ও বেঙ্গালুরুতে তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলী সংস্থা আই-প্যাকের দফতরগুলিতে ইডির আকস্মিক হানা সেই প্রশ্নকেই আরও জোরালো করে তুলল। বেঙ্গালুরুতে সংস্থার ডিরেক্টর ঋষি রাজ সিং-এর বাসভবনেও পৌঁছে গিয়েছেন তদন্তকারীরা।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের অন্দরের গোপন তথ্য এবং নির্বাচনী ব্লু-প্রিন্ট হাতানোই এই অভিযানের আসল লক্ষ্য। গত জানুয়ারি মাসে যখন কলকাতায় আই-প্যাকের আরেক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি, তখন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, দলের হার্ড ডিস্ক, প্রার্থী তালিকা এবং নির্বাচনী কৌশল চুরি করতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগাচ্ছেন অমিত শাহরা। বৃহস্পতিবারের ঘটনা সেই প্রতিহিংসার রাজনীতিরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছে ঘাসফুল শিবির।

তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে ভয় পায় বলেই বারবার কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি করছে। কয়লা পাচার মামলার যে পুরনো অজুহাত দিয়ে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে, তার সঙ্গে এই সংস্থার কোনও বাস্তব যোগ নেই বলেই দাবি দলের ঘনিষ্ঠ মহলের। বরং গোয়া নির্বাচনের সময়কার খরচকে সামনে এনে আসলে বাংলার আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতিকে বাধাগ্রস্ত করাই গেরুয়া শিবিরের মূল পরিকল্পনা।

২০২১ সালে আই-প্যাকের রণকৌশলে ভর করে বাংলার মানুষ জনবিরোধী বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। ২০২৬ সালেও যখন মা-মাটি-মানুষের সরকার ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এই ধরণের হানা গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। প্রশাসনিক বাধা ও ইডির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই তৃণমূল তাদের জয়রথ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আত্মবিশ্বাসী কর্মীরা।

আরও পড়ুন – রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে রাঘবকে সরাল AAP

_

_

_

_
_
_
