মুর্শিদাবাদে বিজেপির ৩ এজেন্সি কাজ করছে। সোমবার, জলঙ্গীর সাদিখাঁরদিয়াড় বিদ্যানিকেতন গ্রাউন্ডের জনসভায় থেকে একতিরে নির্বাচন কমিশন, কংগ্রেস (Congress) প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) এবং হুমায়ুন কবীর-আসাদউদ্দিন ওয়াইসিকে বিদ্ধ করলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Benerjee)। তাঁর কথায়, আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর, মিমের নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসিকে যারা নিরাপত্তা দেয়, সেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা নেন কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীও। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের মতে, এঁদের কাউকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকেই ভোট দেওয়া। কেউ প্ররোচনায় পা দেবেন না- বার্তা তৃণমূল সেনাপতির।

এদিন জলঙ্গীর তৃণমূল প্রার্থী বাবর আলি ও ডোমকলের তৃণমূল প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের সমর্থনে ভোটপ্রচারে করেন অভিষেক। জনসভা থেকে বিজেপি ও তার এজেন্সিদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল সেনাপতি। তাঁর কথায়, “এই মুশিদাবাদ জেলায় বিজেপির তিনটে এজেন্সি কাজ করছে। প্রথমটি হল নির্বাচন কমিশন- যার মাথার উপর রয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার, যিনি মানুষের নাম কাটার জন্য বসে আছেন। দ্বিতীয় রয়েছেন কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী- যাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে অমিত শাহের কেন্দ্রীয় বাহিনী। আর তৃতীয় এজেন্সি হুমায়ুন কবীর আর আসাউদ্দিন ওয়াইসি। মিম আর ডিম- ওদের নাম নিলে সভার পরিবেশ খারাপ হয়।“

বিরোধীদের বিঁধে দলীয় প্রার্থী সম্পর্কে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “এখানে আমাদের ডোমকল বিধানসভার প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের পরিচিতি নতুন করে বলার অবকাশ নেই। মুর্শিদাবাদ জেলায় দীর্ঘদিন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থীর নাম নিয়ে আমি সময় নষ্ট করব না সিপিএমের মুস্তাফিজুর রহমান রানা। তাঁর দলের লোকেরাই তাঁকে মানছে না। জলঙ্গীতে আমাদের প্রার্থী বাবর আলি। সিপিএমের প্রার্থী ইউনুস আলি সরকারের পরিচয় আমাকে নতুন করে দিতে হবে না- তিনি মানুষ খুনের, একের পর এক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় অভিযুক্ত ছিলেন।“

রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে অভিষেক (Abhishek Benerjee) জানান, “ডোমকল মহাকুমা হাসপাতালকে মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হসপিটালের সংস্করণ করা হয়েছে। ডোমকল বিধানসভায় ১৬ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। ডোমকল মহাকুমা আদালত ডোমকলকে পুরসভায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। ডোমকল গার্লস কলেজ, ফায়ার স্টেশন, টাউন এলাকায় কর্মতীর্থ তৈরি হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে ডোমকল বিটি হাই স্কুল গার্লস জলঙ্গী দক্ষিণ ব্লকে দিয়ার হাসপাতাল ও আধুনিকীকরণ করা হয়েছে, অনেক রাস্তার কাজ এবং সেগুলির আধুনিকীকরণ ও সংস্করণ করা হয়েছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট গার্লস হস্টেল বানানো হয়েছে। নোয়াপাড়া বিদ্যানিকেতন স্কুলের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ছাত্রাবাস তৈরি করা হয়েছে।“ বিগত বাম সরকারকে ঠুকে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “মুর্শিদাবাদের মাটিতে থেকেও সিপিএমের প্রার্থীরা কী করেছে? ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও কেন কোন উন্নয়ন হয়নি?“

চতুর্থবার তৃণমূল সরকার আসার পরে জলঙ্গীতে দীর্ঘদিনের দাবি মেনে একটা ফায়ার স্টেশন এবং একটা দুধের চিলিং স্টেশন করবে।

–

–

–

–
–
