”বহিরাগতদের বাংলায় নিয়ে এসে চক্রান্ত করছে বিজেপি”, চাকদহের মশড়া নবপল্লী মাঠের জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে ফের সরব তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বলেন, ”লক্ষ লক্ষ সেন্ট্রাল ফোর্স (Central forces controversy) পাঠানো হচ্ছে। আমাদের থাকতে দিতে হবে, খেতে দিতে হবে। তার পরেও তাঁরাই বিজেপির হয়ে কাজ করবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আমি সম্মান করি। কিন্তু রাস্তা আটকালে ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করবেন। বিজেপি মিথ্যে কথার ফুলঝুরি। ইলেকশনের সময়ে প্রতিশ্রুতি দেয়। কখনও ক্যাশ দেয়, কখনও গ্যাস দেয়।” চাকদা, কল্যাণী ও হরিণঘাটা বিধানসভার প্রার্থী শুভঙ্কর সিংহ, ডা: অতীন্দ্র নাথ মন্ডল ও ডা: রাজীব বিশ্বাসের সমর্থনে প্রচারে এসে ভোটের সময় সতর্কতা অবলম্বন করার বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বেলা দেড়টার পর থেকে দুর্যোগ আসছে এবং ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। তাই দ্রুত সব সভা শেষ করতে হবে সেই কথাও এদিন জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরেই কেন্দ্র কমিশনের আতাঁত নিয়ে এদিন তিনি বলেন, ”কথা দিয়েও কথা রাখে না বিজেপি। বহিরাগতেদের বাংলা নিয়ে এসে চক্রান্ত করছে বিজেপি। তাদের কথাতেই কমিশন কাজ করছে। নাম কাটছে, আর ভোট লুটছে। নাম বাদ গেলে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে। দল সবরকম সাহায্য করবে। অন্যান্য জনসভার মতো এখানেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, একটা লোককেও বাংলা থেকে তাড়াতে দেবেন না।” আরও পড়ুন: আজ নদিয়ার ৩ প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা মমতার, প্রচার করবেন বনগাঁ-হাবরাতেও

মঞ্চ থেকে SIR নাম বাদ নিয়ে সরব হয়ে তিনি বলেন, ‘’সুপ্রিম কোর্টে আমি নিজে দাঁড়িয়েছিলাম বলে ৬০ লক্ষের মধ্যে ৩২ লক্ষ লোকের নাম তালিকায় উঠে গিয়েছে। গতকাল তালিকা বেরিয়েছে। বাদ বাকিটাও ট্রাইব্যুনালে আমরা চেষ্টা করছি। অনেক নাম বাদ গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়ায়। উকুন বেছে বেছে নাম বাদ দিয়েছে। বাগদায় মতুয়াদের নাম বাদ দিয়েছে। গাইঘাটা, চাকদহ, হরিণঘাটাতেও বাদ দিয়েছে। কথা দিয়ে যাচ্ছি, একটা লোককেও বাংলা থেকে তাড়াতে দেব না। মতুয়াদের নাম বাদ দিয়েছে। আমার কেন্দ্র ভবানীপুরেই ৪০ হাজার নাম বাদ দিয়েছিল। এখন দেখতে হবে কত নাম তুলেছে। তাতে আমার বয়ে গেছে। জেনে রাখবেন, আমি ওখানে মানুষের ভালোবাসায়, আশীর্বাদে এখানে ৩৬৫ দিন থাকি। বাংলায় BJP-কে শূন্য করতে হবে, বাংলার মাটিকে পুণ্য করতে হবে। এবারের ভোট আপনাদের ঠিকানা বাঁচানোর লড়াই। তৃণমূল থাকা মানে মনে শান্তি থাকা। জীবনে ভালো থাকা। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা।”

এদিন রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ”রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে ইনফরমেশন টেকনোলজি হাব হয়েছে। বাংলার ডেয়ারি বন্ধ ছিল, সেটা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ইস্কন মন্দিরের জন্য জমি দেওয়া হয়েছে। নতুন রাস্তা তৈরি করার জন্য জমি দেওয়া হয়েছে। সেই জন্য দেড়ঘণ্টায় কলকাতা থেকে রানাঘাট আসা যায়। কালনা থেকে শান্তিপুর পর্যন্ত একটা ব্রিজ তৈরি করা হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকায়।

–

–

–

–

–
–
