বাংলা বিনোদন জগতের শিল্পী ও কলাকুশলীদের কাজের জায়গায় সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বহুদিন ধরেই সওয়াল করে আসছে ফেডারেশন। একাধিক আলোচনা করেও সদর্থক উত্তর মেলেনি। তবে এবার সমস্যার সমাধান হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী, মঙ্গলবার সকালে টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে এসে এমন কথাই বললেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas)।
আর্টিস্টস ফোরামের (Artists Forum) তরফে সোমবার রাতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সকলকে কর্মবিরতির দিন মিটিংয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেইমতো এদিন দশটার পর থেকেই টালিগঞ্জ স্টুডিওতে আসতে শুরু করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee), ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta), কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় (Kaushik Ganguly), প্রিয়াঙ্কা সরকার, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, কৌশিক সেন, লাবনী সেন, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়, অনন্যা চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ বসু, হরনাথ চক্রবর্তী-সহ বিনোদন জগতের প্রায় সব শিল্পীরাই। দুপুরে ১টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী মিটিং এখনও চলছে। কর্মবিরতিকে সমর্থন জানিয়ে এদিন টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে হাজির অভিনেতা-প্রযোজক দেবও (Dev)।


এদিন অভিনেতা জয়জিৎ বলেন, সকলের কথা মাথায় রেখে একটি সুরক্ষা প্রটোকলের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। শিল্পী – কলাকুশলীদের সুরক্ষা-নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য বলেই মন্তব্য করেন অনন্যা চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে হরনাথ চক্রবর্তীরা সকলেই। অভিনেত্রী সৌরসেনী মৈত্র (Souraseni Maitra) বলেন, একটা প্রাণ চলে গেছে, এটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এদিন সস্ত্রীক গৌরব চক্রবর্তী (Gourab Chakraborty) হাজির ছিলেন মিটিংয়ে। তিনি জানান, রাহুলের চলে যাওয়াটা অনেক বড় ক্ষতি। এটা মেনে নেওয়া যায় না। যাঁরা এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেন তাঁদের প্রত্যেকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা দরকার।
অঞ্জনা বসু বলেন, কেউই চায় না কাজ না করে বাড়িতে বসে থাকতে। কিন্তু আজ এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে কারণেই সকলেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। প্রযোজনা সংস্থা, ফোরাম, ফেডারেশন, চ্যানেল কর্তৃপক্ষ সকলের সঙ্গে আলোচনা করে সদর্থক সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে বলে আশাবাদী তিনি। ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার (Federation of Cine Technicians and Workers of Eastern India) সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, শ্যুটিং করতে গিয়ে কারোর যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে কলাকুশলী বা শিল্পী প্রত্যেকেই যেন সঠিক সুরক্ষা পান, সেটা নিশ্চিত করতেই একত্র হয়ে আলোচনা করছে ফেডারেশন এবং ফোরাম। কর্মবিরতির সিদ্ধান্তকে ইমপাও (EIMPA) স্বাগত জানিয়েছে।


–

–

–

–

–

–

–
–
