আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সরকারি কর্মীদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল রাজ্য প্রশাসন। সরকারি বা সরকার পোষিত সংস্থার কোনও কর্মী প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে চরম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মর্মে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসককে কড়া নির্দেশিকা পাঠালেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা।

নবান্ন সূত্রে খবর, জেলাশাসকদের পাঠানো ওই বার্তায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যদি কোনও সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার বা কোনও বিশেষ দলের হয়ে কাজ করার প্রমাণ মেলে, তবে শুধুমাত্র বিভাগীয় তদন্ত নয়, দায়ের করা হবে এফআইআর। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আনা হবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ। মূলত অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতেই মুখ্যসচিব এই কড়া অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের উদ্দেশেও একগুচ্ছ সতর্কবার্তা দিয়েছেন মুখ্যসচিব। তিনি জানিয়েছেন, ভোটারদের ভয় দেখানো, কোনও প্রলোভন দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা কিংবা বুথ জ্যামিং ও ছাপ্পা ভোটের মতো ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে বাড়ি থেকে বুথে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব ভোট কর্মীদেরই। কোনও এলাকায় ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের তার দায় নিতে হবে।

মুখ্যসচিবের এই নির্দেশের পর জেলায় জেলায় সরকারি কর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সমস্ত স্তরের কর্মীকে এই নির্দেশের কথা বিশদে জানিয়ে দেওয়ার জন্য জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, নির্বাচনের সময় অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে বিশেষ কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে। এবার সেই প্রবণতা রুখতে এবং কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আগেভাগেই রাশ টানতে চাইছে নবান্ন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনের এই ‘ক্লিন ইমেজ’ বজায় রাখার লড়াইয়ে কর্মীদের জন্য মুখ্যসচিবের এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।

আরও পড়ুন – দাঁড়িয়ে থাকা বিমানে ধাক্কা গাড়ির! যাত্রী নিরাপত্তায় বড়সড় প্রশ্ন কলকাতা বিমানবন্দরে

_

_

_

_
_
_
