নিষেধাজ্ঞা থেকে সহাবস্থান, সত্যিই কি টলিপাড়ায় অতীত হতে চলেছে বয়কট সংস্কৃতি (Ban Culture)? সিনেমা – সিরিজের কাজে ফিরতে চলেছেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban Bhattacharya)? বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কিছুটা হলেও আশার আলো টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ায়। ৭২ ঘণ্টার ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে টলিউডের ‘ব্যান কালচার’ তুলে দেওয়ার ব্যাপারে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে (Prosenjit Chatterjee) সময় দিয়েছিলেন অভিনেতা দেব (Dev)। ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে ডিরেক্টরস গিল্ডের বড় পদক্ষেপের কথা জানালেন সুপারস্টার। প্রসেনজিতকে চিঠি পাঠিয়ে ফেডারেশনের (FCTWEI) বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে ‘ডিরেক্টরর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’। তাহলে কি সত্যিই কাজে ফিরতে পারবেন অনির্বাণ-সহ নিষিদ্ধ হওয়া শিল্পীরা। এখনই এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ FCTWEI সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas)।


গত ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) রাহুলের (Rahul Arunoday Bandopadhyay) জন্য বিচারের দাবিতে যখন পুরো ইন্ডাস্ট্রি একজোট হয়েছিল, সেই সময় আর্টিস্টস ফোরামের (West Bengal Motion Picture Artist’s Forum) আলোচনায় ‘নিষিদ্ধ’ শিল্পীদের কাজে ফেরানোর দাবি তোলেন অভিনেতা দেব (Dev)। স্বরূপ পাল্টা জানিয়ে ছিলেন, ‘বলা সহজ কিন্তু করে দেখানো কঠিন। পরিচালকদের সংগঠনের করা মামলায় যেভাবে নিজেদের সঞ্চিত অর্থ খরচ করে কোর্টে লড়াই করতে হয়েছে কলাকুশলীদের সেই দায় কে নেবে?’ জল্পনা বাড়তে থাকে সত্যিই কি ‘বয়কট সংস্কৃতি’ শেষ হতে চলেছে টলিউডে? ঠিক যখন মনে হচ্ছিল উত্তর অধরা তখনই পরিচালকদের গিল্ডের তরফে চিঠির মাধ্যমে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং দেবকে জানানো হয়েছে তাঁরা এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তুত। খুশি জাহির করে দেব জানিয়েছেন, ‘এই পদক্ষেপে আমি ব্যক্তিগতভাবে যে ভীষণ খুশি সে কথা অনস্বীকার্য। একইসঙ্গে এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সদস্য হিসেবে আজ আমি গর্বিত।আশা করি এই পদক্ষেপ আমাদের মতো প্রতিটি শিল্পীর প্রগতিশীল ভবিষ্যৎ ও সুন্দর পরিবেশ গড়তে বিরাট ভূমিকা পালন করবে। ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীকে নিষিদ্ধ করা সংস্কৃতি থেকে সরে এসে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে যাই।’


গিল্ডের সভাপতি সভাপতি শৈবাল মিত্র জানান, “আমরা চিঠি দিয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজব। তবে ‘ব্যান’ উঠে গেল সেটা অখুনি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। একটা প্রক্রিয়া শুরু হল সেটা বলাই যায়। বাকিটা ফেডারেশনের উপর নির্ভর করছে। নিষদ্ধ বা ‘ব্যান’ বিষয়টার উত্থাপন কোথা থেকে সেটাই তো এখনও বুঝতে পারছি না।” ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “আমরা এখনও কোনও চিঠি পাইনি।ভবিষ্যতে কী হবে সেটা তো এখুনি বলা সম্ভব নয়।” সত্যিই কি স্টুডিও পাড়ায় স্বস্তি ফিরছে নাকি সবটাই সাময়িক সেটা বলা মুশকিল। তবে একটা অকালমৃত্যু এক ঝটকায় বড় পরিবর্তন এনে দিল বাংলা বিনোদন জগতে।



–

–

–

–

–

–
