কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পথে নামলেন থিয়েটার ও পারফর্মিং আর্টিস্টরা। পশ্চিমবঙ্গ পারফর্মিং আর্টিস্ট কমিউনিটির (West Bengal Performing Artists Community) উদ্যোগে এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় কলকাতায় (Kolkata)। শিল্পীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কৃতি মন্ত্রক, কেন্দ্রীয় সরকার (Ministry of Culture, Government of India) থিয়েটার কর্মীদের যে অনুদান দিত, তা গত ৪-৫ বছর ধরে তা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। কারও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে অনুদান বন্ধ করা হয়েছে। এমন অভিযোগও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, যোগ্য শিল্পীদের প্রাপ্য অনুদান নিশ্চিত করতে হবে এবং এই ‘বৈষম্যমূলক’ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

শিল্পীদের বক্তব্য, প্রায় ৬০ বছর ধরে থিয়েটার, নৃত্য, মাইম ও পাপেট শিল্পীদের উন্নয়নের জন্য এই অনুদান চালু ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে দিয়েছে কেন্দ্র। এর ফলে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই প্রায় ৩০০ নাট্যদল ও প্রায় ২০০০ নাট্যকর্মী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। শিল্পীদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু শিল্পীদের নয়, গোটা সাংস্কৃতিক পরিবেশের উপর বড় ধাক্কা।


গত ৩০ মার্চ তপন থিয়েটারে (Tapan Theatre) অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীরা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়, সম্প্রতি একাধিক নাট্যদলকে ‘কুলড অফ’ (Cooled Off) তালিকায় পাঠানো হয়েছে বা অনুদান বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এর কোনও নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। এতে থিয়েটার মহলে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, পয়লা বৈশাখে আবারও বড় জমায়েত করা হবে। প্রয়োজনে ধর্না ও ধারাবাহিক আন্দোলনের পথেও হাঁটবেন তাঁরা। ইতিমধ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রক-সহ বিভিন্ন দফতরে আবেদন জানানো হলেও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ। শিল্পীদের দাবি, এই সিদ্ধান্তে দেশের প্রায় ২৫ হাজার শিল্পীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।শিল্পীদের একটাই বার্তা। থিয়েটার শুধু বিনোদন নয়, সমাজের সাংস্কৃতিক চেতনার অন্যতম ভিত্তি। সেই শিল্পকেই অবহেলা করে কেন্দ্র সরকার ‘তুঘলকি’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

–

–

–

–

–
–
–
–
