What Bengal thinks today, India thinks tomorrow-গোখলের সেই বাণীই যেন আবার প্রমাণিত। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের তুমুল সমালোচনা করে এবার সেইগুলিই রাজ্যে চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করল বিজেপি। ‘ইস্তাহার’ শব্দে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আপত্তি। সেই কারণে রাজ্যে এসে শুক্রবার বিজেপির (BJP) ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। আর সেখানে লক্ষ্মীভাণ্ডার থেকে শুরু করে যুবসাথী- নাম বদলে সেই সব প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অথচ তৃণমূল (TMC) সরকারের এই প্রকল্পগুলিকে ‘ভিক্ষা’ থেকে শুরু করে হেন কোনও অপমানজনক শব্দ নেই যা বলে নিন্দা করেননি পদ্ম নেতৃত্ব। এই বিষয় নিয়ে বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করেছে রাজ্যের শাসকদল। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, “লজ্জাও করে না! যাকে সমলোচনা করছি, তাকেই নকল করছি!”

আর ১২দিন পরেই রাজ্যের প্রথম দফার ভোট। শাসকদল তো বটেই বামেরাও নির্বাচনী ইস্তেহার (Manifesto) প্রকাশ করেছে। যদিও সেখানও রাজ্য সরকারের প্রকল্পের অনুকরণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এবার বিজেপি ইস্তেহার প্রকাশ হয়। রাজ্যের মহিলা ও যুবদের সাহায্যে যে সব প্রকল্প মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছেন সেগুলিকে ভিক্ষা বলে কটাক্ষ করে পদ্মশিবির। অথচ বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ থেকে শুরু করে বাংলা বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকরণে প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

এবার বাংলাতেও তৃণমূল সরকারের প্রকল্পগুলিকেই নিজেদের ইস্তেহারে প্রাধান্য দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এদিন শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের প্রত্যেক মহিলাকে মাসে ৩০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন অনুযায়ী বেতন পাবেন সরকারি কর্মীরা। ৩০০০ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে পাবেন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মহিলারা। মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে টাকা পাওয়া যাবে।”

নির্বাচনের আগেই যুবসাথী প্রকল্প চালু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যাতে বেকার, কলেজ পড়ুয়ারা হাতখরচ বা চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারেন। সেই প্রকল্পকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করার পরে, সেই প্রকল্পেই আরও বেশি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ইস্তেহারে দিয়েছে বিজেপি। লেখা হয়েছে, ৩০০০ টাকা বেকার যুবকদের প্রতি মাসে দেওয়া হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মাসে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। শাহ (Amit Shah) বলেন, “বাংলার মেধাবী যুবকরা কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে চলে যাচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এসে শিল্পায়নের পাশাপাশি এই যুবকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।”

পাশাপাশি, রাজ্যের সব চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। কিন্তু বিজেপিশাসিত রাজ্যে সেটা করা হয়নি কেন! তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি অমিত শাহ।

এই সংকল্প পত্রকে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। কুণাল ঘোষ বলেন, ”মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ যা ভাবেন, বিজেপি কাল, পরের মাসে, পরের বছর সেটা ভাবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সমালোচনা করে সেই করেছে। মানুষ ফোটোকপি নেবেন কেন, এখানে তো অরিজিনাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই (Mamata Banerjee) আছেন।” তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের কথায়, বিজেপি সুবিধা দুটো। এক, ওরা জানে ওরা এখানে কোনও দিন ক্ষমতায় আসবে না, সুতরাং প্রকল্প চালুর প্রশ্ন নেই। আর যে সব বিজেপিশাসিত রাজ্যে লক্ষ্মী ভাণ্ডারের নকল করে প্রকল্প চালু করেছিল, সেখানে মা-বোনেরা আর সেই টাকা পাচ্ছেন না। তীব্র কটাক্ষ করে কুণাল বলেন, “লজ্জাও করে না! যাকে সমলোচনা করছি, তাকেই নকল করছি! কোনও লজ্জা নেই এদের”।

–

–

–
–
