লাগাতার দুদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারে বাধা শুধুমাত্র বিমান পরিষেবার কারণে। কখনও ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী, কখনও বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার উড়তে বাধা দিয়ে কর্মসূচিতে দেরি করানো হচ্ছে বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। এমনকি নির্বাচনী সভার জন্য মাঠের অনুমতি দিতেও নিতে হচ্ছে বিজেপির নেতাদের অনুমতি। খড়দহের প্রার্থী সাংবাদিক দেবদীপ পুরোহিতের নির্বাচনী সভা থেকে বিজেপির সেই সব মেশিনারির বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

সোমবার বীরভূমের মুরারই থেকে উত্তর চব্বিশ পরগণার খড়দহে সভা ছিল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অত্যন্ত দেরিতে খড়দহে পৌঁছানোয় কার্যত অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সভায় বক্তব্য দিতে দিতে সিঁড়ি দিয়ে নেমে যেতে হয় তৃণমূল নেত্রীকে। তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানান, রানওয়েতে আমাকে আধঘণ্টা আটকে রাখল। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব প্লেন নামাল। কাল হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টারও ৪০ মিনিট আটকে রেখে দিয়েছিল প্রায়। এরা আমাদের সঙ্গে এরকমই ব্যবহার করছে।
নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে বিজেপি নিজেদের দলের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের কীভাবে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে তা প্রমাণিত হওয়ার পরে আধিকারিক বদলে বাধ্য হয়েছে কমিশন। আদতে তাদের নিয়োজিত পর্যবেকক্ষরা কীভাবে হয়রান করছেন, তার বর্ণনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এয়ারপোর্টে আপনি গেলেন তো। বিজেপির লোকগুলো ওখানে বসে আছে। দুর্ঘটনা ঘটলে দেখে না, যত আমাদের দেরি করাতে পারে। মাঠে অনুমতি দিতে দেরি করে। এখানে কারা সব এসে বসে আছে বিজেপির লোকজন দায়িত্বে। আমি এরকম দেখিনি কখনও। বিজেপি পরিবার দেখে দেখে লোক দায়িত্বে এনেছে। এবং অনেক কষ্ট করে এই মিটিংয়ের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। বিনা কারণে, ইচ্ছা করে আমাকে দেরি করালো।

খড়দহ তথা উত্তর চব্বিশ পরগণায় যেভাবে তৃণমূলকে প্রশাসনিকভাবে পিছিয়ে দিতে মাঠে নেমেছে নির্বাচন কমিশন, তা নিয়ে সোচ্চার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা দাবি, এখানে যিনি দায়িত্বে এসেচেন তিনি লাট সাহেবের বেটা। সে না কি অনুমতি দেওয়ার সময়েও বিজেপিকে জিজ্ঞাসা করছে। তার সঙ্গে ঝগড়া করতে করতে অনুমতি নিতে হয়েছে। এতবড় ঔদ্ধত্য আর অহংকার! ৪ তারিখের পরে অহংকারের বিষ দাঁত গণতন্ত্রের মাধ্যমে মানুষ ভোটবাক্সে বোঝাবেন। প্রত্যেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন।

আরও পড়ুন : প্রধানমন্ত্রীর পকেটে ১০ টাকা থাকে দেখেছেন? পুরোটাই নাটক: ঝালমুড়ি নিয়ে মোদিকে নিশানা মমতার

তা সত্ত্বেও বিজেপি যেভাবে মহিলা বিল নিয়ে মিথ্যাচার করতে শুরু করেছে নির্বাচনের আগে, তা নিয়ে খড়দহ থেকেও সরব হন তৃণমূল নেত্রী। সেই সঙ্গে তুলে ধরেন বাংলা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের আগেই মহিলা ক্ষমতায়নে কীভাবে এগিয়ে বাংলা। বিজেপি যেভাবে গোটা দেশের অর্থনীতির অধঃপতনের জন্য দায়ী তা নিয়ে নরেন্দ্র মোদির প্রতিশ্রুতির ফেল করার প্রমাণের পাশাপাশি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তারপরেও যেভাবে বাংলার মহিলা ও যুব সমাজের কাছে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেন তিনি।

