হাতে মাত্র দুদিন। বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল। এর মাঝেই সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম নির্বাচনী জনসভা করেন পুরুলিয়ায়। তারপর তিনি বাঁকুড়ার রানিবাঁধে সভা করেন। রানিবাঁধের সভার আগেই বড় ভাঙন বিজেপির ঘরে। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য জয়দেব চক্রবর্তী আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন। বাঁকুড়া জেলার রানিবাঁধ এলাকায় নির্বাচনী সভায় জয়দেব চক্রবর্তী আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেন।

Today, at Shri @abhishekaitc’s janasabha in Ranibandh, Joydeb Chakraborty, former BJP State Committee member, joined the Trinamool Congress family.
Disillusioned with the BJP’s jono-birodhi politics, he has chosen the path of development under the leadership of Smt.… pic.twitter.com/bWvEye8lkM
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) April 20, 2026
বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বহু বিজেপির নেতা–কর্মী দলে দলে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। বাংলার একাধিক জেলায় দেখা গিয়েছে চেনা ছবি। এবার সেই ছবি ধরা পড়ল রানীবাঁধেও। জয়দেব চক্রবর্তী বাঁকুড়া জেলায় বিজেপির বেশ পরিচিত মুখ। রাজ্য কমিটির সদস্য হিসেবে জয়দেব দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন। কিছুদিন হল দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, টিকিট বিতরণ নিয়ে অসন্তোষ এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় তিনি আজ তৃণমূলে যোগ দিলেন। বলেন, ‘’তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের দল। এখানে স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়নের কাজগুলি সত্যিই হয়। আমি এখন থেকে রানিবাঁধ ও আশেপাশের এলাকার মানুষের জন্য কাজ করব।’’ স্থানীয় ক্ষমতার সমীকরণ এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক হিসেব–নিকেশ যে এই দল বদলের অন্যতম কারণ সেই বিষয়ে সন্দেহ নেই।
অন্যদিকে রানিবাঁধে নির্বাচনী সভা থেকে বিজেপিকে তুলোধনা করেন অভিষেক। তৃণমূলের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, ”বাম আমলে ২০০৬ সালে শিলান্যাস হওয়া কেচোন্দা সেতুর কাজ তৃণমূল সরকারই সম্পন্ন করেছে। খাতরা ও রানীবাঁধে আইটিআই কলেজ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আধুনিকীকরণ, মুকুটমণিপুরে কর্মতীর্থ এবং কুর্মি উন্নয়ন পর্ষদ গঠন- সবই করেছে মা-মাটি-মানুষের সরকার। শুধুমাত্র রানীবাঁধ বিধানসভা এলাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পাচ্ছেন এবং সাড়ে ১২ হাজার মানুষ কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের টাকায় বাড়ির টাকা পেয়েছেন। যিনি ২০১৬ এবং ২০২১-এ হেরেছেন, ২০২৬-এও তাঁর হার নিশ্চিত। স্কুলে যেমন পরপর তিনবার ফেল করলে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, ওনার ক্ষেত্রেও তাই হতে চলেছে। মোদীজির গ্যারান্টি মানে জিরো ওয়ারেন্টি, আর তৃণমূলের গ্যারান্টি মানে লাইফটাইম ওয়ারেন্টি। যারা বাংলা আবাস যোজনার টাকা আটকে দিয়েছে, তাদের যোগ্য জবাব দেবে জঙ্গলমহল।”

আরও পড়ুন – আলিপুরদুয়ারে দেবের ভোট প্রচারে বাধা, কমিশনের দিকে অভিযোগের আঙুল তৃণমূলের

_

_

_

_
_
_
_
