দিল্লি থেকে পরিযায়ী বিজেপির নেতারা এসে বারবার বাংলায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা যেভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে চালাচ্ছে নির্বাচনী জনসভা থেকে একাধিকবার তুলে ধরেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার বেলেঘাটায় নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির সেই হামলার রাজনীতির মধ্যে দেশভাগের সময়ে বেলেঘাটায় বসে গান্ধীজির (Mahatma Gandhi) নেতৃত্বের ইতিহাস তুলে ধরলেন। যেভাবে বিজেপি ভারতের ইতিহাস ও বর্তমান থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছে, তার পাল্টা মহাত্মা গান্ধীকে কীভাবে উজ্জ্বল রাখছে বাংলার তৃণমূল সরকার, তাও স্মরণ করিয়ে দেন তৃণমূল নেত্রী।

বেলেঘাটা থেকে দেশে শান্তির যে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী, সেই বেলেঘাটায় নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থী কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) পক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কুণাল ঘোষ সারাক্ষণ লড়াই করে। আবার সাংবাদিকতাও করে। যেভাবে কলকাতা বদলে গিয়েছে, তারই উদাহরণ তুলে ধরে তৃণমূল প্রার্থীকে সমর্থনের বার্তা দেন।
রাজ্যে অশান্তির বিষ ছড়ানো বিজেপিকেও মহাত্মা গান্ধীর কথা স্মরণ করিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, যখন দেশ স্বাধীন হয়েছিল, ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট। তখন গান্ধীজি বেলেঘাটায় এই গান্ধীভবনে বসেছিলেন। কেন জানেন? দেশ ভাগ হওয়ার পরে যাতে অশান্তি না হয়, অশান্তি রোখবার জন্য। আর তোমরা দিল্লি থেকে এসে এখানে হামলা করছ।

বিজেপির গান্ধী-বিরোধিতার সঙ্গে তৃণমূলের সম্মানের পার্থক্য তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ১০০ দিনের প্রকল্প থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে। ওরা নাম বাদ দিয়েছে আমরা সেই দিনই এক ঘণ্টার মধ্যে আমাদের ১০০ দিনের কাজ মহাত্মা গান্ধীর (Mahatma Gandhi) নামে করেছি। মহাত্মা গান্ধী জাতির নেতা, দেশের নেতা, দেশের পিতা।

সেই সঙ্গে বিজেপির তিন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন বেলেঘাটা থেকে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আপনারা বলেছিলেন ক্ষমতায় আসার আগে বছরে ২ কোটি লোককে চাকরি দেবেন। ১২ বছরে তাহলে ২৪ কোটি হল। ১টাও লোক চাকরি পেয়েছে? সেল, রেল, গেল বিক্রি। এলআইসির বেশিরভাগ শেয়ার বেসরকারিকরণ করে দিয়েছে। এখন গ্যাস পাচ্ছেন আমার ঝগড়ার জন্য, বলেছি গ্যাস বাংলার বাইরে পাঠানো যাবে না। নির্বাচন ফুরিয়ে যাবে সব গ্যাস পালিয়ে যাবে। তখন গ্যাসটা আবার কত দাম বাড়বে দেখে নেবেন। আপনাদের আবার চুলায় ফিরিয়ে দেবে। কাঠ সংগ্রহ করে আনুন, তাও কেরোসিন পাবেন না।

আরও পড়ুন : বিমানবন্দরে দেরি, সভার অনুমতি দিচ্ছে বিজেপি! কমিশনের পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে সরব মমতা

দ্বিতীয়ত তিনি মনে করান, তুমি বলেছিলে প্রত্যেক মানুষের অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা করে দেবে। ১০ হাজারও দিয়েছ কাউকে? যদি দিয়ে থাকে বলুন, আমি মেনে নেব। পাশাপাশি তিনি তৃতীয় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ মনে করিয়ে দাবি করেন, নোটবন্দি করে আপনাদের সবার পয়সা কেড়ে নিয়ে বলেছিল এক টাকাও ফেরৎ দাও। নাহলে জেল হবে। সব মায়েদের ঘরে জমানো পয়সা কেড়ে নিলো। তারপর? একটাও ব্ল্যাক মানি ফেরৎ এসেছে?

–
–
–
