অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে বড়সড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সিভিক পুলিশ, ভিলেজ পুলিশ এবং গ্রিন পুলিশদের ভোটের ডিউটি তো বটেই, এমনকি নির্বাচন সংক্রান্ত অন্য কোনও কাজেই ব্যবহার করা যাবে না। প্রথম দফার ভোটের মাত্র তিন দিন আগে কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, এই কর্মীদের অবিলম্বে রিজার্ভ পুলিশ লাইনে পাঠাতে হবে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতর থেকে জানানো হয়েছে, স্বচ্ছ ভোট প্রক্রিয়া বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভোটের তিন দিন আগে অর্থাৎ ‘পি মাইনাস থ্রি’ ডে থেকে কোনও সিভিক বা ভিলেজ পুলিশকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত রাখা যাবে না। তবে ভোটের দিন তাঁরা সাধারণ পোশাকে এসে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। কোনওভাবেই ইউনিফর্ম পরে ভোটকেন্দ্রে আসা যাবে না। রাজ্যের সমস্ত পুলিশ কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপারদের এই নির্দেশ কঠোরভাবে পালন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন।
সিভিক ভলান্টিয়ারদের নির্বাচনী ময়দান থেকে দূরে সরিয়ে রাখার পাশাপাশি অশান্তি রুখতে বিপুল সংখ্যক কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) মোতায়েন করছে কমিশন। প্রথম দফার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য মোট ২ হাজার ১৯৩টি টিম প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে অশান্তিপ্রবণ এবং সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলাতেই সর্বাধিক ২১৯টি কিউআরটি রাখা হয়েছে। এর পরেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর (২৫৩টি) ও পশ্চিম মেদিনীপুর (২৪৮টি)।
উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহল— সর্বত্রই থাকছে কড়া নিরাপত্তা। বাঁকুড়ায় ১৮০, পুরুলিয়ায় ১৩৯ এবং মালদহে ১৫৭টি টিম মোতায়েন করা হচ্ছে। বীরভূমেও থাকছে ১৬১টি কিউআরটি। আসানসোল-দুর্গাপুর ও ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলেও নজরদারি বাড়াতে বিশেষ দল রাখা হচ্ছে। কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে এই টিমগুলি কাজ করবে। বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সিসিটিভি-র পাশাপাশি কিউআরটি-র এই সক্রিয়তা ভোটের দিন কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনবে বলে আশাবাদী কমিশন।
আরও পড়ুন- নির্বাচনী প্রচার থেকে ফের বাংলার মনীষীদের অপমান! যোগীর বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল-সপা
_
_

_
_

_

_

