বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে মদের কারবার নিয়ন্ত্রণে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ করল আবগারি দফতর। ভোটের আগে মদের দোকান বন্ধ রাখার চিরাচরিত মেয়াদ একধাক্কায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হল। আগে যেখানে ভোট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে দোকান বন্ধ রাখার নিয়ম ছিল, নতুন নির্দেশিকায় তা বাড়িয়ে ৯৬ ঘণ্টা বা চার দিন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত মদকে নির্বাচনী প্রলোভন হিসেবে ব্যবহার রুখতেই এই কড়া অবস্থান বলে মনে করা হচ্ছে।

আবগারি দফতর সূত্রে খবর, গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যে মদের বিক্রি ও সরবরাহের গ্রাফ অস্বাভাবিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছিল, ভোটারদের প্রভাবিত করতে মদকে হাতিয়ার করা হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই এবার রাশ টানল প্রশাসন। দফতরের নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রুখতেই এই মেয়াদ বৃদ্ধি। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক এবং কলকাতার ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনার যদি মনে করেন কোনও এলাকায় পরিস্থিতি জটিল, তবে তাঁরা এই ৯৬ ঘণ্টার মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও রাখবেন।
শুধু দোকান বন্ধ রাখাই নয়, এই সময়কালে মদের বেআইনি মজুত ও পাচার রুখতে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ‘বেঙ্গল এক্সাইজ অ্যাক্ট’-এর বিশেষ ধারা প্রয়োগ করে কড়া আইনি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে পুলিশ ও আবগারি আধিকারিকদের। প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার। মদের অপব্যবহার করে কেউ যাতে ভোট প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, তার জন্যই এই চার দিনের ‘ড্রাই ডে’ ঘোষণা।

এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যে মদের কালোবাজারি বাড়ার আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। তবে আবগারি দফতর আশ্বস্ত করেছে যে, প্রতিটি জেলার সীমানায় এবং গুদামগুলিতে কড়া প্রহরা থাকবে। নির্দেশ অমান্য করলে দোকানের লাইসেন্স বাতিল পর্যন্ত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফার ভোটের আগে থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হচ্ছে।

আরও পড়ুন- জার্মান সুন্দরীকে নিয়ে বিতর্কে জেরবার! অনুষ্কাকে নিয়েই বৃন্দাবনে শান্তির সন্ধানে কোহলি

_

_

_
_
_
_
