“বেহালা এলে আমার খুব গর্ব হয়। কেন জানেন? এই মেট্রো রেলটা আমি পুরো করে দিয়েছিলাম। উদ্বোধনটাও করেছিলাম। কাজও চালু করে গিয়েছিলাম”, শনিবার দিনের শেষ সভা থেকে এমনটাই জানান তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বেহালা পশ্চিমের প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় এবং বেহালা পূর্বের প্রার্থী শুভাশিষ চক্রবর্তীর সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এদিন তিনি বলেন, ”মেট্রোর কাজে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা অনেকটাই। কাল নৌকাবিহার। ওটা তো আর্মির নৌকা, নেভির। ও-ও তো সাজিয়ে গুজিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
এরপরেই বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এবারের লড়াইটা গণতন্ত্রের লড়াই। বিজেপি একটা অপদার্থ পার্টি, যারা বিধর্মী, ধর্ম মানে না। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে মানে না। রাজা রামমোহন রায়ের স্বপ্ন জানে না। গান্ধীজিকে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প থেকে বাদ দেয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে সন্ত্রাসবাদী বলে, আমি ধিক্কার জানাই।কলকাতাকে হেরিটেজ টাউন করে দেব বলে হোর্ডিং লাগাচ্ছে। ওরে ওটা আমরা করে দিয়েছি। জানেই না। অর্ধশিক্ষিত। কলকাতাকে ইউনেস্কো হেরিটেজ করার জন্য আমাদের সঙ্গে ২০২৫ সাল থেকে আলোচনা চলছে। আর অর্ধসত্যির দল, শুধু মিথ্যা কথা বলে। দু’দিন আগে ইলেকশনে আমরা সেঞ্চুরি পার করেছি। নেক্সট ইলেকশনে আপনাদের সেঞ্চুরি পার করাতে হবে। দায়িত্বটা আপনাদের নিতে হবে।”

কমিশনের বাইক নিয়ে কড়াকড়ি প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “আজ জিনিসপত্রের দাম কত বেড়েছে। আজ দেখছিলাম, অফিসযাত্রী, বাইরের যাত্রীরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কেন হচ্ছে? এখন তো আমাদের হাতে নেই। সব বাস তুলে নেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ মোটরগাড়ি তুলে নেওয়া হয়েছে। বাইকও বন্ধ করে দিয়েছিল। ওটা কোনওরকমে আমরা চালু করিয়েছি। তাও কোর্টে কেস করে। সব বন্ধ করে দেবে। যাতে মানুষ অফিসে, হাসপাতালে যেতে না-পারে। বলছে পুলিশের পারমিশন নিতে হবে। যদি আপনার বাবা-মা অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন পারমিশন নিতে হবে? ততক্ষণে হার্ট অ্যাটাকের রোগী মরে যাবে। বাইক বন্ধ। দোকান বন্ধ। সব বন্ধ। শুধু তোমরা চলবে, আর কেউ চলবে না? বাইরে বিপদে পড়লে কী করে যাবে মানুষ? কোর্টে কেস করে আটকানো হয়েছে। জোরজুলুম করছে। হামলা করছে। অত্যাচার করছে।”

সার প্রসঙ্গ তুলেও কমিশনের আচরণকে তোপ দাগেন তিনি। বলেন, ”লজিস্টিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিটা কী? কই বিহারে তো হল না, ওড়িশায় হল না, রাজস্থানে হল না। তোমার রাজ্যে হল না। পশ্চিমবঙ্গে কেন হল? কারণ পশ্চিমবঙ্গের উপর তোমাদের রাগ আছে। তোমরা বাংলাবিদ্বেষী। ২০২৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে আমাদের সাংসদেরা প্রশ্ন করেছিল, জানতে চেয়েছিল, রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি-সহ কত অনুপ্রবেশকারী সারা ভারতে আছে? উত্তর ছিল, দু’হাজার সামথিং। প্রথমে বলল, রোহিঙ্গা। একটাও রোহিঙ্গা এখানে আসেনি। যদি ঢুকে থাকে, আপনি ঢুকিয়েছেন। দিল্লি মনে রেখো, আগামী দিন তোমাদের বদলা নেওয়ার পালা। আমি কোনওদিন বদলার কথা বলিনি। কিন্তু আমি ভোটের মাধ্যমে বদলা নেব। বলেছিলাম বদলা নয়, বদল চাই। আর এবার বলছি, বদল নয়, গণতান্ত্রিক বদলা চাই। কী দরকার পড়ল যে দু’লক্ষ পুলিশ বাইরে থেকে নিয়ে এলেন? সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এলেন? এত ফোর্স কেন? জোর করে পশ্চিমবঙ্গকে দখল করা যাবে না। লোক যদি মন থেকে চায়, লোক ভোট দেবে। লোকের উপর ভরসা রাখো।”

আরও পড়ুন – ভোটের আবহে কলকাতা পুলিশে বড় রদবদল! ফের বদল কালীঘাট থানার ওসি

_

_
_
_
_
