বসিরহাটে দক্ষিণে বিজেপির 'ডাক্তার' প্রার্থী আদতে নেপালের কম্পাউন্ডার! বিস্ফোরক অভিষেক

ভোটের মুখে বসিরহাট দক্ষিণে চড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ। শনিবার উত্তর গুলাইচণ্ডী ময়দানে তৃণমূলের মেগা সভা থেকে পদ্ম-প্রার্থীর ডাক্তার পরিচয়কে ‘ভুয়ো’ বলে দাগিয়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, হলফনামায় নয়, বিজেপি প্রার্থীর ডাক্তারি কেবল পোস্টারেই সীমাবদ্ধ। নেপালের ‘কম্পাউন্ডার’ ডিগ্রি দিয়ে মানুষকে ঠকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে এ দিন বসিরহাট থেকে দিল্লিকে কড়া বার্তা দেন তৃণমূলের সেনাপতি।
ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে এ দিনের জনসভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র ওরফে বাদলের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার একঝাঁক তৃণমূল প্রার্থী। অভিষেক তাঁর ভাষণে স্পষ্ট করে দেন, এই ভোট প্রতিবাদের ভোট। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আবাস যোজনা থেকে শুরু করে ১০০ দিনের কাজের টাকা— সবটাই আটকে রেখেছে মোদি সরকার। তাঁর চ্যালেঞ্জ, “বিজেপি প্রার্থী যদি প্রমাণ করতে পারেন গত পাঁচ বছরে কেন্দ্র আবাসের জন্য এক পয়সা দিয়েছে, তবে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।”
বসিরহাটের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারই মানুষের পাশে থেকেছে। ‘ইছামতী সার’ উৎপাদন থেকে শুরু করে এলাকার স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। একই সঙ্গে আশ্বাস দেন, এলাকায় আন্ডারপাসের দাবি নিয়ে তিনি আগামী দিনে সংসদে সরব হবেন। সাংসদ না থাকা সত্ত্বেও বসিরহাটের মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরে তিনি বলেন, “যতদিন আপনারা কোনো সাংসদ পাচ্ছেন না, আমাকে আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে ভাবুন।”
এ দিনের সভা থেকে নাম না করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও নিশানা করেন অভিষেক। বাঙালিদের ‘রোহিঙ্গা’ বা ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “গুজরাট বা দিল্লির লোক এসে বাঙালিদের অপমান করবে, এটা মেনে নেওয়া হবে না। যারা মাছ খাওয়া নিয়ে ব্যঙ্গ করে বা রবীন্দ্রনাথের পদবি ভুল বলে, তাদের গণতান্ত্রিকভাবে জবাব দেওয়ার সময় এসেছে।”
বিজেপি প্রার্থীদের জনসংযোগের ধরনকেও এ দিন হাসির খোরাক করেন অভিষেক। প্রার্থীদের দাড়ি কামানো বা ঘরের কাজ করে দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর খোঁচা, “৪ তারিখের পর তো আর দেখা যাবে না, তাই এখন ওদের দিয়ে সব ঘরের কাজ করিয়ে নিন।” পরিশেষে তাঁর আবেদন, ধর্ম নয়, রুটি-রুজি এবং উন্নয়নের স্বার্থেই যেন মানুষ তৃণমূলের প্রার্থীদের জয়ী করেন। আগামী ২৯ তারিখের ভোটে বিজেপিকে যোগ্য শিক্ষা দেওয়ার ডাক দিয়ে সভা শেষ করেন তিনি।
আরও পড়ুন- ‘বেহালা এলে গর্ব হয়’, মেট্রো প্রকল্পের সাফল্য স্মরণ করিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ মমতার
_
Sponsored

_
Sponsored

Sponsored

_
Sponsored

Sponsored

_
Sponsored

_
Related Articles

ফেসবুক লাইভে 'অবমাননাকর' মন্তব্য! মদন মিত্রকে ১০ কোটির নোটিশ অভিষেকের
6h ago

চলতি অর্থবর্ষেই সপ্তম বেতন কমিশন! বকেয়া ডিএ নিয়েও বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
8h ago

শিক্ষক বদলিতে ‘সুপারিশ-সংস্কৃতি’ শেষ, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সাম্মানিক বৃদ্ধির আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর
8h ago

গ্রেফতারির পর আদালত থেকে জামিন পেলেন অসিত মজুমদার
10h ago

'প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা' নিয়ে উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর
11h ago

ক্যাথেড্রাল রোডমুখী জনস্রোত, মমতার পথেই জনতা
11h ago





