ভোট-বাংলার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে এবার শিলিগুড়িতে দেখা গেল একেবারে অন্যরকম চিত্র। রাজনীতির লড়াই নয়, বরং এক পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তারাবাড়ির বুথে। প্রায় দু’বছর আগে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর ছেড়েছিলেন স্ত্রী। কিন্তু ভোট দিতে তিনি নিজের বুথে ফিরবেনই, এই বিশ্বাসে সকাল থেকে পাঁচ ঘণ্টা রোদে ওত পেতে বসেছিলেন স্বামী। শেষমেশ স্ত্রী বুথে ঢুকতেই তাঁকে হাতেনাতে ধরলেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে তারাবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫/২৩৮ নম্বর বুথে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোটের দিন সকাল থেকেই চাঁদিফাটা রোদের মধ্যে বুথের বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন এক ব্যক্তি। দীর্ঘক্ষণ কারও সঙ্গে কথা না বলে কেবল ভোটারদের গতিবিধির দিকে নজর রাখছিলেন তিনি। দুপুর ২টো নাগাদ যখন এক মহিলা ভোটার কার্ড ও স্লিপ হাতে বুথে প্রবেশ করতে যান, তখনই নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। তাঁকে দেখামাত্রই পিছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। শুরু হয় ধস্তাধস্তি, ভোটার কার্ড ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তাঁরাই ওই মহিলাকে উদ্ধার করেন এবং ব্যক্তিকে আটক করেন।
তদন্তে জানা যায়, বছর দুয়েক আগে ওই মহিলা তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেই থেকে তাঁর খোঁজ পাননি স্বামী। তবে স্বামীর স্থির বিশ্বাস ছিল, কড়া নিরাপত্তার আবহে স্ত্রী নিশ্চয়ই নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে বুথে আসবেন। সেই আশায় দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা অপেক্ষার পর স্বামীকে সফল হতে দেখা যায়। তবে মহিলার ভোটদানে আপত্তি জানান ওই ব্যক্তি। তাঁর দাবি ছিল, ভোটার কার্ডে স্বামীর নাম হিসেবে যতক্ষণ তাঁর নাম থাকছে, ততক্ষণ ওই মহিলাকে ভোট দিতে দেওয়া যাবে না।

যদিও নিরাপত্তারক্ষীরা এই দাবি নাকচ করে দেন। পরিচয়পত্র বৈধ হওয়ায় ওই মহিলাকে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ক্ষুব্ধ স্বামী এরপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ও আধিকারিকদের গালিগালাজ করতে করতে বুথ এলাকা ছেড়ে চলে যান। এই নজিরবিহীন ঘটনায় হতবাক নির্বাচন আধিকারিকরাও। কর্তব্যরত এক আধিকারিক মন্তব্য করেন, ২৬ বছরের কর্মজীবনে অনেক কিছুই দেখেছেন, কিন্তু বুথের ভেতরে এমন পারিবারিক লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা এই প্রথম। সব মিলিয়ে ভোট-শিলিগুড়িতে এই ‘ফিল্মি’ কাণ্ড এখন মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে।

আরও পড়ুন – নির্বাচন মিটলেও জারি নজরদারি! ১০ মে পর্যন্ত খোলা রাজভবনের বিশেষ হেল্পলাইন

_

_

_
_
_
_
