বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় (Second phase of West Bengal Assembly Election) নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গাইঘাটা বিধানসভার বেড়গুম ১ নম্বর পঞ্চায়েতের কুঁচলিয়া এলাকায় ভোট দিতে যান এক প্রবীণ। পরনে ছিল লুঙ্গি। সংখ্যালঘু সেই ভোটারকে ওই পোশাকে তাঁকে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force)। অমানবিক আচরণে ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কেউ লুঙ্গি পরতে পারেন, কেউ পাজামা পরেন। তার সঙ্গে ভোটদানের কী সম্পর্ক। ক্যানিংয়েও এরকম ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা নিয়ে সরব হন তৃণমূল সুপ্রিমো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ওই বৃদ্ধ ভোটারের নাম আবদুল রউফ মণ্ডল (Rauf Mandal)। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে প্রশ্ন করেন কেন তিনি লুঙ্গি পরে ভোট দিতে এসেছেন এবং জানিয়ে দেন, এই পোশাকে ভোট দেওয়া যাবে না। বয়স্ক ওই ভোটারকে বুথ থেকে টেনে বের করে দেওয়া হয় বলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।। শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য করা হয় তাঁকে। পরে নাতির একটি প্যান্ট জোগাড় করে সেটি পরে আবার ভোটকেন্দ্রে আসেন এবং নিজের ভোট দেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষও। একজন মানুষ কোন পোশাক পরবেন তার সঙ্গে সেই ভোটারের ভোটদানের তো কোনও সম্পর্ক নেই। ভোটের দিনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী অযথা সাধারণ ভোটারদের হেনস্থা করছে। প্রিসাইডিং অফিসার এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
শুধু গাইঘাটা নয়, ভোটের দিন রাজ্যের আরও একাধিক জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। পূর্ব বর্ধমানের (East Burdwan) জামালপুরে (Jamalpur) ভোটারদের চড় মারার অভিযোগ সামনে এসেছে, বাগদায় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যসহ কয়েকজনের উপর মারধরের অভিযোগও উঠেছে। ভবানীপুরের মতো হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বয়ং প্রার্থী সেখানেও চলেছে বাহিনীর জোরজুলুম। একের পর এক এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

–

–

–

–

–
–
