কার্যত নজিরবিহীন পদক্ষেপ। ভোটগ্রহণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সম্পূর্ণ নির্বাচন বাতিল করে দিল নির্বাচন কমিশন। শনিবার একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করে কমিশন জানিয়েছে, ওই কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথের প্রতিটিতেই নতুন করে ভোট নেওয়া হবে। আগামী ২১ মে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই পুনর্নির্বাচন চলবে। ফল ঘোষণার জন্য ২৪ মে দিনটি ধার্য করা হয়েছে।

কমিশনের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে মোক্ষম খোঁচা দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। কমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কটাক্ষ করে তাঁর প্রশ্ন, ফলতায় যদি এতই রিগিং হয়ে থাকে, তবে ভোটের দিন কোনও প্রতিক্রিয়া বা প্রতিরোধ দেখা গেল না কেন? কমিশনের কড়া নিরাপত্তার দাবিকে বিঁধে কুণাল বলেন, ভোটের দিন সব ঠিকঠাক দেখানোর পর হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? তখন কী করছিলেন সব সিংঘম অফিসার? একই সঙ্গে তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে ভোট হওয়া সত্ত্বেও যদি এই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তার দায় কার?
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের দিন ফলতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একগুচ্ছ অভিযোগ জমা পড়েছিল। পর্যবেক্ষকদের পাঠানো রিপোর্ট এবং পরবর্তী স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়ার পর কমিশন নিশ্চিত হয়েছে যে, ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচনী প্রক্রিয়া গুরুতরভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। কমিশনের নথিতে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে, বহু বুথে ইভিএমের ব্যালট ইউনিটে নির্দিষ্ট কিছু চিহ্নের ওপর কালো টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাতে ভোটাররা তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে চিহ্নিত করতে না পারেন। এ ছাড়াও বহিরাগতদের বুথে ঢুকে দেদার ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগও হাতে-নাতে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি কমিশনের। স্বচ্ছতার অভাব এতটাই প্রকট ছিল যে, অনেক বুথে নিয়মমাফিক ওয়েবকাস্টিং বা ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি। আবার কোথাও ফুটেজ মিললেও তাতে স্পষ্ট অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

আরও পড়ুন – ৩৫ বছর পর ব্যালট ছেড়ে ইভিএমে! ভোট দিয়ে আপ্লুত বেলঘরিয়ার সমীর মজুমদার

_

_

_

_
_
_
_
