ভোট গণনায় কারচুপি রুখতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল তৃণমূল। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার দায়িত্ব নিজের হাতেই রাখলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শনিবার দলের এজেন্ট ও প্রার্থীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেখানই কাউন্টিং এজেন্টদের অভিষেকের পরামর্শ, ”কাউন্টিং এজেন্টদের বলব কাউন্টিং এজেন্টরা পুরো শেষ পর্যন্ত থাকবেন। সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া অবধি কেউ হল ছেড়ে বেরোবেন না।”

ভোটগণনায় কারচুপি রুখতে কাউন্টিং এজেন্টদের প্রযুক্তির দিকটি বিস্তারিত জানান অভিষেক (Abhishek Banerjee)। তিনি জানান, ”রাজ্যের তরফ থেকে জেলায় কিছু লোককে পাঠাবেন তাঁরা আগামিকাল জেলায় যাবেন। তাঁরা আমাদের এই সিদ্ধান্তগুলি বাস্তবায়িত করবেন। ট্রান্সফরমারগুলি দেখে রাখবে। ওইদিন ভোর ৬ টায় পার্টি অফিস খুলে লোক বসবে।” এর পরেই প্রতিনিধিদের নাম জানান তিনি। এবং অভিষেক জানান, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা তিনি দেখে নেবেন।
তাঁর নির্দেশ, ”ইভিএম আনার পর ফর্ম ১৭ সি-র সঙ্গে আমাদের সিরিয়াল নম্বর মেলাতে হবে। নম্বর ম্যাচ না করলে মেশিন খোলা যাবে না। ভিভিপ্যাট কাউন্টিংয়ের দাবি জানাতে হবে। নম্বর মিলে গেলে সিল, তারিখ, সময় যাচাই করতে হবে। প্রথম দফা, দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে নেবেন। টোটাল বোতামের নম্বর মেলাবেন। ১৭ সি ফর্মের সঙ্গে সেটা মিলতে হবে। তারপর রেজাল্টের বোতাম টিপে ধরে ধরে কোন প্রার্থী ক’টা পেয়েছে দেখবেন। ডায়রি নিয়ে যাবেন। সুবিধা অ্যাপে তোলার সময় সেটা ওখানেই করতে হবে। কিন্তু কোন প্রার্থী ক’টা ভোট পেয়েছে সেটা ফরম্যাট করে নিয়ে যাবেন। নোট করবেন। এই চুরি বিহারে, দিল্লিতে হয়েছে।” অভিষেক পরামর্শ, ”সন্দেহ বা গরমিল হলেই ভিভিপ্যাট কাউন্টিংয়ের দাবি জানাবেন। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো, যখন কাউন্টিং টেবিলে মেশিন আনা হবে, তখন ব্যাটারি পার্সেন্টেজ করবেন। এই পার্সেন্টেজ যদি ৭০ পার্সেন্ট হয় বা তার বেশি তখনই ভিভিপ্যাট কাউন্টিংয়ের দাবি জানাবেন। কারণ সারাদিন কাজের পর এই পার্সেন্টেজ পঞ্চাশ শতাংশের মতো মত থাকা উচিত।”

গতবারের নন্দীগ্রামের ফলের কথা মনে করিয়ে তৃণমূলের সেনাপতি বলেন, ”ওরা চাইবে লোডশেডিং করতে, বাহিনী দিয়ে অত্যাচার করা। ছাত্র সংগঠন ট্রান্সফরমার ঘিরে রাখবে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরে নজর রাখবেন। সিআরপিএফ যদি অত্যাচার করে, আপনারাও ঝান্ডা নিয়ে থাকবেন। আমাকে যদি কেউ মারে আমার আত্মরক্ষার অধিকার আছে। কোথাও অবজার্ভার গিয়ে বলল, আপনাকে থানায় যেতে হবে। কেউ এরকম বললে লিখিত দেখতে চাইবেন। থানায় নিয়ে যেতে হলে পুলিশ করবে। এগুলো ভয় দেখানোর কৌশল। আগামী দু’দিন শক্ত থাকবেন। একটা বাঙালির উপর ডান্ডা পড়লে তার জবাব হবে।”

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের মতে, ”নির্বাচনের পরদিন থেকেই বিজেপির নানা ন্যারেটিভ চলে। আগেও দেখেছি। এক্সিট পোল করে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এটা ১০-১২ বছর ধরে চলছে। এই সবে গুরুত্ব দেবেন না। কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রচুর অত্যাচার করেছে। মনে রাখবেন।ওদের ধমকানো, চমকানো চলবে চার মে অবধি। যে অত্যাচার কেন্দ্রীয় বাহিনী করেছে। মানুষের বাড়িতে গিয়ে মেরেছে। মহিলাদের শিশুদের মেরেছে। তৃণমুলের কর্মীদের গ্রেফতার করা সব করেছে। পরশু দুপুর পর্যন্ত এটা হবে। কাউন্টিং এজেন্টদের বলব কাউন্টিং এজেন্টরা পুরো শেষ পর্যন্ত থাকবেন। সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া অবধি কেউ হল ছেড়ে বেরোবেন না।”
আরও খবর: সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা পরিচালিত করতে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক নিয়োগ কমিশনের

এদিনের পুনর্নির্বাচনে সম্পর্কে অভিষেক বলেন, ”আজও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পুনরায় ভোটগ্রহণ করতে হয়েছে। সব ব্যবস্থাপনা সত্ত্বেও শেষে কমিশন পুনরায় ভোটগ্রহণে বাধ্য হল। বিভিন্ন সংস্থা ও বাহিনী-সহ নিজেদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেও তারা আবারও পরাজিত হবে। সমস্ত নিয়মকানুন বদলে দেওয়া হয়েছিল। কার্যত, ভোটের ময়দানে লড়াইটা ছিল তৃণমূল বনাম কেন্দ্রীয় বাহিনীর।”

অভিষেকের দাবি, ”গণমাধ্যমে যে সব বুথ ফেরত সমীক্ষা দেখানো হচ্ছে— সেটা দেখে বিজেপিও বিশ্বাস করছে না যে, তারাই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। বাস্তবতা সম্পর্কে তারা পুরোপুরি অবগত। আমি বলছি নোট করে নিন— ২০২১ সালের তুলনায় তৃণমূল কংগ্রেস এবার আরও বেশি আসন পাবে।”

অভিষেকের হুঁশিয়ারি, একজনও সাধারণ পর্যবেক্ষক কিংবা পুলিশ পর্যবেক্ষক পার পাবেন না। যারাই সংবিধান-বিরোধী কাজ করবেন তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তৃণমূল সেনাপতির বার্তা, ”আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। ওইদিন শেষ চুরি ও কামড় দেবে। বিজেপি নিজেও ভালো করে জানে ওরা জিতবে না। এক্সিট পোল করানো হয়েছে। দিদি বলেছে ২০০ র বেশি হবে। গতবার ২১৫ পেয়েছিলাম। এবার ১ টা হলেও বাড়বে। ভোটের পার্সেন্টেজ ও বাড়বে।”
–
