তৃণমূলের হাত থেকেই রাজ্যের ক্ষমতা যেতেই, বেসুরো দলের বিধায়করা। সেই তালিকায় শীর্ষে নাম উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee)। দল বিরোধী কাজের জন্য ইতিমধ্যেই তিনি তৃণমূল (TMC) থেকে বহিষ্কৃত। কিন্তু দল ভাঙিয়ে তথা দল পাকিয়ে তিনি বিধানসভার বিরোধী দলনেতার ঘরটি দখল করেছেন। এই পরিস্থিতি ঈশপের গল্পের আঙ্গিকে নীতিকথা স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন ঋতব্রতর স্ত্রী কবি-সাহিত্যিক দূর্বা সেন বন্দ্যোপাধ্যায় (Durba Sen Banerjee)। সেখানে নাম না করে তীব্র কটাক্ষ করেন দূর্বা। এক কল্পকাহিনী দিয়ে লেখিকা সাফ লেখেন, “স্রোতের অনুকূলে ভেসে যাওয়া বা অন্যের জয়ে ভাগ বসানো খুব সহজ। তার জন্য কোনো বীরত্বের প্রয়োজন হয় না। হেরোদের দলে টিকে থেকে বুক চিতিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য যে অসীম দম আর কলিজার প্রয়োজন হয়, তা সবার থাকে না।” এই আক্রমণের লক্ষ্য কে? এই প্রশ্নে যখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, তখনই নিজের পোস্ট সংশোধন করে দূর্বা লেখেন, এটা একেবারেই ব্যক্তিগত অনুভূতি এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।

নিজের ফেসবুক পেজে কী লিখেছেন দূর্বা? ঈশপের গল্পের আঙ্গিকে তিনি এক সাধুর গল্প লেখেন।
“”Courage is the most important of all the virtues…”
সাধুর আশ্রমে এসে এক যুবক আক্ষেপ করে বলল, “গুরুদেব, কেউ হেরে যাওয়া মানুষের পাশে থাকে না। সবাই জেতার দলেই নাম লেখাতে চায়। হারের গ্লানি সহ্য করা বড় কঠিন!”
সাধু তাকে কিছুই না বলে পরদিন ভোরে নিয়ে গেলেন দুটি পাহাড়ের সামনে।
প্রথম পাহাড়টি ছিল মসৃণ, চওড়া আর সুন্দর সিঁড়ি বাঁধানো। হাজার হাজার মানুষ অনায়াসে হেসে-খেলে, দল বেঁধে সেই পাহাড়ে উঠছিল।
দ্বিতীয় পাহাড়টি ছিল খাড়া, পাথুরে আর দুর্গম। তীব্র ঝড়-বাতাসের মধ্যে সেখানে মাত্র একজন একাকী পথিক রক্তাক্ত পায়ে, প্রতি পদক্ষেপে আছাড় খেয়েও আবার উঠে দাঁড়াচ্ছিল।
সাধু যুবকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, “এই দুইয়ের মধ্যে কার শক্তি বেশি?”
যুবকটি বলল, “নিশ্চয়ই ওই একাকী পথিকের। কারণ ও চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও হাল ছাড়েনি।”
সাধু তখন হাসলেন। বললেন,
“জেতার দলটা ওই প্রথম পাহাড়ের মতো। স্রোতের অনুকূলে ভেসে যাওয়া বা অন্যের জয়ে ভাগ বসানো খুব সহজ। তার জন্য কোনো বীরত্বের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু হেরে যাওয়ার পরও যে মানুষটা মাঠ ছাড়ে না, একা দাঁড়িয়ে থাকে, সে আসলে দ্বিতীয় পাহাড়ের যাত্রী। জেতার দলে ভিড় জমানো সহজ, কিন্তু হেরোদের দলে টিকে থেকে বুক চিতিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য যে অসীম দম আর কলিজার প্রয়োজন হয়, তা সবার থাকে না।””

তাহলে কি ঋতব্রতদের কাপুরুষ বলতে চাইছেন দূর্বা (Durba Sen Banerjee)? কলিজার দমের অভাব রয়েছে বলে খোঁচা দিতে চাইছেন বিদ্রোহী অ্যান্ড কং-কে? এই প্রশ্নে যখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, তখনই নিজের পোস্ট সংশোধন করে দূর্বা লেখেন, এটা একেবারেই ব্যক্তিগত অনুভূতি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। এই বিষয়ে লেখিকা জানান, তিনি অফিসে হেনস্থার শিকার। সেই বিষয় নিয়ে তিনি আদালতে মামলাও করেছেন। বিচারাধীন বিষয়গুলির বিস্তারিত না জানালেও দূর্বা জানিয়েছেন, রাজনীতির সঙ্গে তাঁর দূর-দূরান্তের সম্পর্ক নেই। এটা একেবারেই তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে করা পোস্ট।

–

–

–

–

–
–
–
–
