রাজ্যপাটে পালাবদলের পর থেকেই প্রশাসনিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে নতুন সরকার। সেই রদবদলের প্রথম কোপ গিয়ে পড়ল মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (সিএমও) এবং পূর্বতন সরকারের মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সচিবালয়ে। কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিএমও-তে কর্মরত ১৬ জন ডব্লুবিসিএস আধিকারিককে সরিয়ে দিয়ে নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের ৪৬টি দফতরের মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) এবং ওএসডি পদেও আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের দাবি, সিএমও-র পরিকাঠামোকে দ্রুত সক্রিয় ও প্রভাবশালী করতেই এই পদক্ষেপ। নবনিযুক্ত আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন সুদত্তা চৌধুরী, নীতেশ ঢালি, শঙ্খ সাঁতরা, রাহুল মজুমদার ও অমিতজ্যোতি ভট্টাচার্যের মতো অভিজ্ঞ আধিকারিকরা। কৃষি বিপণন, খাদ্য, পরিবহণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ ৪৬টি দফতরে এই পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে লক্ষ্য করা গিয়েছে, নতুন সরকারের অনেক মন্ত্রীই তাঁদের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে এমন আধিকারিকদের পেয়েছেন, যাঁরা আগের জমানাতেও একই বা সমগোত্রীয় পদে কাজ করেছেন।

তবে এই প্রশাসনিক রদবদলকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। নবান্নের অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে ‘টার্গেট’ এবং ‘প্রতিশোধমূলক’ বদলির অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, পূর্বতন জমানায় মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় বা প্রভাবশালী মন্ত্রীদের দফতরে যাঁরা দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, তাঁদের অনেককেই এখন অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বের পদে বা দূরদূরান্তে বদলি করে দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েকের বদলি নিয়ে। স্বরাষ্ট্র দফতরের অধীনে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে কর্মরত প্রতাপ নায়েককে সরাসরি দার্জিলিং জেলার বিজনবাড়ি এলাকার পাল বাজার ব্লকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তিনিই নন, সিএমও থেকে সরিয়ে দেওয়া ১৬ জন আধিকারিককেই অবিলম্বে কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর আমলাতন্ত্রে রদবদল স্বাভাবিক নিয়ম হলেও, এবার যে ক্ষিপ্রতা ও ধরনে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা কার্যত নজিরবিহীন। বিশেষ করে বিদায়ী সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকা আধিকারিকদের বেছে বেছে বদলি করার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। যদিও সরকারের দাবি, প্রশাসনকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতেই এই রুটিন রদবদল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের এই প্রথম বড় মাপের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

আরও পড়ুন – বেটিং নিয়ে বিসিবির বড় পদক্ষেপ, অভিযুক্তদের সাময়িক সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত

_

_
_
_
_

