কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মদিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তাঁর কালীঘাটের বাড়ির সামনেই উদযাপিত হল বিশ্বকবির জন্মদিবস। উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক নেতৃত্ব সহ কর্মী-সমর্থকরা। কোনও বড় আয়োজন নয় তবে ছিমছাম ঘরোয়া ভাবে প্রাণের কবিকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করলেন নেত্রী।


রবীন্দ্রস্মরণে গান, কবিতা আবৃত্তি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় আবেগঘন হয়ে ওঠে মুহূর্তরা। বাঙালির সাংস্কৃতিক ভাবাবেগকে সম্মান জানাতেই নিজের বাড়ির সামনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত ছাপোষা মঞ্চে কোনও আড়ম্বর ছাড়াই শুধুমাত্র রবীন্দ্রস্মরণেই এই অনুষ্ঠান সীমাবদ্ধ ছিল, এই সাধারণ আবেগও অসাধারণের মাত্রা এনে দিয়েছে। উসকে দিয়েছে বাঙালি আবেগকে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সঙ্গীত পরিবেশন করেন কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্পিতা ঘোষ, বাবুল সুপ্রিয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। এছাড়াও গলা মেলান দোলা সেন-সহ অন্যরা। আবৃত্তি করেন সৈয়দ তনভির নাসরিন।


এদিকে ক্ষমতায় এসেই হুলিগানিজম চালাচ্ছে বিজেপি। সেই প্রসঙ্গ টেনেই এদিন অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আজ সকালে দু’টো চৌকি কিনলাম৷ সব ডেকরেটারদের মানা করে দিয়েছে, যাতে কেউ চৌকি-টৌকি না দেয়, প্যান্ডেল না করে৷ এগুলো যা দেখছেন এসব নিজেরা করেছি৷ মাইকের বক্সও আমরা নিজেরাই অ্যারেঞ্জ করে নিয়েছি। নেত্রী বলেন, আমাদের নীতি-নৈতিকতার লড়াই আজ থেকে শুরু হবে। আমাদের শুভ শক্তির উদয় হোক এবং মানুষের মঙ্গল হোক। আজকের দিনে যাঁরা এসেছেন- বিশেষ করে সব বিশিষ্ট মানুষদের এবং যারা ভয় পেয়েছেন- তাঁদের আমি বলব যাঁর ইচ্ছে হবে মানসিকভাবে নীতিগতভাবে, তাঁরা নিজেদের মাটির টানে, শিকড়ের টানে একত্রিত হবেন এটা আমি বিশ্বাস করি। তাই আমাদের এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন সবাইকে অনেক অনেক প্রণাম এবং অভিনন্দন জানাচ্ছি।



এদিন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, পঁচিশে বৈশাখের এই পুণ্য দিনে বিশ্ববন্দিত শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরণে নিবেদন করি আমার অন্তহীন প্রণাম। রবীন্দ্রজয়ন্তী আমাদের কাছে বাংলা ভাষা-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরই এক নবজন্মের মহোৎসব। তাঁর সুগভীর জীবনদর্শন আমাদের প্রাত্যহিক পথচলার অবিনাশী আলোকবর্তিকা। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন— বিভেদ নয়, মিলনই সত্য। উগ্র জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে উঠে সমগ্র মানবসভ্যতা যেন ঐক্যের মহামন্ত্রে দীক্ষিত হয়, এই শিক্ষাই তিনি বিশ্বচরাচরকে দিয়ে গিয়েছেন। কবিগুরুর লেখা উদ্ধৃত করে করে তিনি যোগ করেন, হে মোর চিত্ত, পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে। বিশ্ববরেণ্য কবির এই শাশ্বত আদর্শ, সুদূরপ্রসারী চিন্তাধারা, চেতনাবোধ এবং সৃষ্টিশীলতা আরও নিবিড়ভাবে প্রোথিত হোক বিশ্ববাসীর মননে।


আরও পড়ুন – অভয়া-কাণ্ডের ফাইল আবার খুলতে হবে: পুত্রের কাছে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর মা গায়ত্রী অধিকারীর

_

_

_
_
_
_

