পাশে ছিল স্কুল-বন্ধুরা-পরিবার। মাধ্যমিকের অনুভবের পরিচয় বদলে আলিয়া হয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে সাফল্য। সব বাধা ও সামাজিক সংকোচ কাটিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নতুন উদাহরণ গড়লেন ঝাড়গ্রামের (Jhargram) অনুভব পাল (Anubhav Pal)। মাধ্যমিক পর্যন্ত পুরুষ পরিচয়ে লেখাপড়া করলেও একাদশ শ্রেণী থেকে নিজের পরিচয়ে তৃতীয় লিঙ্গের (Third Gender) উল্লেখ করেন তিনি। সমাজের নানা বাধা, কটূক্তি এবং অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক (Higher Secondary) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন অনুভব। ভবিষ্যতে আলিয়া পাল নামেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি।
ঝাড়গ্রামের ননীবালা বিদ্যালয়ের (Nanibala School) এই পরীক্ষার্থী বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের অনুভূতি বুঝতে পারেন। ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলার বদলে মেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতেই বেশি পছন্দ করতেন তিনি। ধীরে ধীরে নিজের নারীসত্তাকে বুঝতে শুরু করেন তিনি। তবে সমাজের ভয়ে দীর্ঘদিন সেই পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। পরিবারের নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং মাকে হারানোর পর নিজের ইচ্ছেকেই গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অনুভব ওরফে আলিয়া (Alia Pal)। এরপর মনোবিদের পরামর্শ নিয়ে শুরু হয় হরমোন চিকিৎসাও।

একাদশ শ্রেণিতে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁর পাশে দাঁড়ায়। মেয়েদের পোশাক পরে সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়মিত ক্লাস করেছেন তিনি। স্কুলের প্রধানশিক্ষকও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও রকম কটূক্তি বা বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না। যদিও সমাজের একাংশের ব্যঙ্গ বিদ্রুপ সহ্য করতে হয়েছে, তবুও বন্ধু, শিক্ষক এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সমর্থন তাঁর লড়াইকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এ বছর উচ্চ মাধ্যমিকে ৩৩৫ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন অনুভব। তাঁর স্বপ্ন দৃশ্যকলা নিয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করা। ভবিষ্যতে রবীন্দ্রভারতী বা বিশ্বভারতীতে পড়াশোনা করে একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হতে চান তিনি। সদ্য ১৮ বছরে পা দেওয়া অনুভব এখন চিকিৎসার মাধ্যমে নিজের নতুন পরিচয় আলিয়া পালকে (Alia Pal) সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সমাজের সমস্ত বাধা অতিক্রম করে নিজের স্বপ্নপূরণের পথেই এগিয়ে চলেছেন তিনি।

–

–

–

–
–
–
