ভোটের আগে যে প্রকল্পকে ‘ভিক্ষা’ বা ‘দান-খয়রাতি’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছিল বিজেপি, ক্ষমতায় আসার পর কার্যত সেই মডেলকেই মান্যতা দিল নতুন সরকার। শুধু বদলে গেল নাম। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পুরনো প্রকল্পের উপভোক্তাদের সরাসরি এই নতুন প্রকল্পে স্থানান্তর করা হবে। শুধু তাই নয়, এবার থেকে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণাও করেছে রাজ্য সরকার। তবে টাকার অঙ্ক বাড়লেও, এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি চাকরি, পেনশন বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। আয়করদাতারাও এই যোজনার বাইরে থাকবেন। পাশাপাশি, এসআইআর-২০২৬ বা বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদেরও এই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সিএএ-র আবেদনকারী এবং ট্রাইব্যুনালে মামলা বিচারাধীন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যে প্রকল্পকে একসময় আক্রমণ করা হয়েছিল, ক্ষমতায় এসে সেই মডেলকেই আরও বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দিয়ে চালাতে বাধ্য হওয়ায় নতুন সরকারকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র কটাক্ষ।

একই সঙ্গে এই বিপুল আর্থিক বোঝা সামলানো নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রশাসনিক অলিন্দে। নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন প্রকল্পে অর্থ জোগাতে গিয়ে কোপ পড়েছে ধর্মীয় শ্রেণিভিত্তিক ভাতা প্রকল্পগুলিতে। ইতিমধ্যেই সরকার ঘোষণা করেছে, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের অধীনে ধর্মীয় ভিত্তিতে চালু থাকা আর্থিক সহায়তামূলক ভাতা আগামিকাল বা আগামী মাস থেকে বন্ধ হয়ে যাবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দরিদ্র পুরোহিত, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এই ইস্যুতে নতুন সরকারকে একহাত নিয়েছে বিরোধী শিবির তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, একদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নাম বদলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি, অন্যদিকে সেই খরচ মেটাতে সমাজের প্রান্তিক ও ধর্মীয় পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত গরিব মানুষদের ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, উৎসবের মরশুমের মুখে রাজ্যের এই নয়া সামাজিক ও আর্থিক নীতি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন- ৯১ লক্ষ মহিলা কীভাবে পাবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার: স্পষ্ট করে দিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা

_

_

_
_
_
_
