পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ নয়— এই দাবি নিয়ে প্রতিবাদে গর্জে উঠল তৃণমূল কংগ্রেস। গরিব মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ প্রাচী সিনেমার সামনে শতরঞ্চি পেতে প্রতিবাদ-কর্মসূচি করে তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ দিনভর টালবাহানার পর পুলিশ শেষে জানায় শিয়ালদহ স্টেশন-চত্বরে এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া যাবে না। অনুমতি দেয়নি রেলও (আগাম চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও)। কিন্তু যেহেতু মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার প্রশ্নে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি করা হবে বলে দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাই যে কোনও মূল্যে এই কর্মসূচি করতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল কংগ্রেস।
অবস্থান-বিক্ষোভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব বলেন, ১৯৯৬ সালে সিপিএম যেভাবে হকার উচ্ছেদ করেছিল (অপারেশন সানশাইন) বিজেপিও সেই একই কাজ করছে ক্ষমতায় এসে। সেদিনও প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারও প্রতিবাদ করছেন তিনি। পথে নামিয়েছেন দলকে। এদিন প্রথম থেকেই প্রচুর পুলিশ- র্যা ফ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপ ছিল এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। এদিন কর্মসূচির শেষদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব বলেন, আমরা উচ্ছেদের জায়গাগুলি দেখতে যাব। কিন্তু তাতেও বাধা দেয় পুলিশ।
এ নিয়ে বিধায়ক কুণাল ঘোষ-সহ বাকি তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে পুলিশের তীব্র বাদানুবাদ চলে। কুণাল পুলিশকে বলেন, আমরা উচ্ছেদের জায়গা দেখতে না পেলে কীভাবে ডিআরএমের সঙ্গে আলোচনা করব! পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে হকারদের জায়গা দেখাটা জরুরি। কিন্তু পুলিশ জোর করে আটকে দেয়।
যুবনেতা মৃত্যুঞ্জয় পাল পুলিশকে বলেন, আমরা ট্রেনে উঠব আপনারা আটকাতে পারেন না। তাতেও কর্ণপাত করেনি পুলিশ। বিজেপি সরকারের নির্দেশমতোই কাজ করেছে পুলিশ। বেশ কিছুক্ষণ বাদানুবাদ-ধস্তাধস্তি চলার পর তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়ে দেন— আমরা আপাতত আর এটাকে টানছি না। কারণ অফিস ছুটির সময় হয়ে এসেছে। পথচারী-অফিস ফেরতা মানুষের অসুবিধে হোক সেটা আমরা চাই না। আমরা আবার রেলের কাছে সময় চাইব। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চার বিধায়ক— অশোক দেব, মদন মিত্র, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষ। এছাড়াও ছিলেন একঝাঁক কাউন্সিলর— স্বপন সমাদ্দার, ইন্দ্রজিৎ দে, ইকবাল আহমেদ, মোনালিসা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও কয়েকজন। ছিলেন যুবনেতা মৃত্যুঞ্জয় পাল ও শক্তিপ্রতাপ সিং।
–

–

–

–

–

–

–
–
–
