কলকাতা পুরসভার (KMC) ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা! কলকাতা পুরসভার অধিবেশন কক্ষে তালা। ভিতরে ঢুকতে পেরে ক্লাব রুমে পুরসভার মাসিক অধিবেশন হল। ছিলেন পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় (Mala Ray), মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)-সহ তৃণমূল কাউন্সিলরেরা (TMC Councillor)। মাসিক বিকল্প অধিবেশনে মুলতবি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।
স্মরণকালে এমন ঘটনা কলকাতা পুরসভায় (KMC) এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করতে পারছেন না কেউ। শুক্রবার পুরসভার মাসিক অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। অভিযোগ, অধিবেশন কক্ষে তালা দেওয়ায় ভিতরে ঢুকতেই পারলেন না চেয়ারপার্সন, মেয়র-সহ কাউন্সিলররা। খোদ মালা রায় অনুরোধ করলেও অধিবেশনের জন্য ঘরটি খুলে দেওয়া হয়নি। শেষে অধিবেশন কক্ষের বাইরে কাউন্সিলর্স ক্লাব রুমে সভা করেন চেয়ারপার্সন (Chairperson)। সেই ক্লাব ঘরে সভা করার মতো কোনও পরিকাঠামোই নেই। আসনবিন্যাস থেকে মাইকের ব্যবস্থা- কিছুই ছিল না। কাউন্সিলরেরা নিজেরাই চেয়ার-টেবিল সরিয়ে ঘরটিকে অধিবেশনের মতো সাজিয়ে নেন। এর পরে সভা শুরু হয়। মাইক ছাড়াই বক্তব্য রাখেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষরা।

এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেন মালা। বলেন, “আমি তালা খুলে দেওয়ার কথা বলে পাঠিয়েছিলাম। অধিবেশন করব। আমরা প্রত্যেকেই এখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কিন্তু এখনও সেই তালা খোলা হয়নি। তাই আমরা এখানে অধিবেশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাকি কথা পরে জানাব।“

মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “সরকার সরকারের কাজ করবে, আমরা আমাদের কাজ করব। নির্ধারিত সময়ে পুরসভার নির্বাচন হবে।“ অধিবেশন কক্ষ না খোলার বিষয়ে ক্ষোভ উগরে ফিরহাদ বলেন, “বার বার চেষ্টার পরেও বোঝাতে পারি নি। এই অবস্থা দুঃখের, অপমানের। কাউন্সিলরদের অভিনন্দন গণতন্ত্র অধিকার রক্ষার আন্দোলন এ যোগ দেওয়ার জন্য। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।“

তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, “হতে পারে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু পুরসভা এখনও বৈধ। ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তার বৈধতা রয়েছে। পুরসভার অধিবেশনে সাধারণ মানুষের পরিষেবা নিয়ে কাজ হয়, আলোচনা হয়। তা বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগে এমনটা কখনও হয়নি।“

এদিকে এদিন কালীঘাটে দলীয় কাউন্সিলর নিয়ে বৈঠকে বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

–

–
–
–
