কলকাতা পুরসভায় নজিরবিহীন অধিবেশনের সাক্ষী থেকেছেন শুক্রবার কাউন্সিলররা। বৈঠক ডাকা, বাতিল, ক্লাব রুমে অধিবেশনের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এরপরই মাত্র তিনজন কাউন্সিলর (councilor) নিয়ে পুরসভায় আনাস্থা আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিধায়ক সজল ঘোষ (Sajal Ghosh)। পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) প্রশাসনিক প্রধানকে দিয়ে সেই কাজও তাঁরা করতে পারেন বলে দাবি করেছেন তিনি। একদিকে যখন ভয় নয়, ভরসার সরকার প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন বর্তমান বিজেপির সরকারের নেতারা, তখন নির্বাচিত পুরপ্রশাসনকে হুঁশিয়ারির পথেই তাঁদের নেতারা।
বাংলায় ক্ষমতা দখলের আগেই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে পুরনিগমের কমিশনার বদল করেছিল বিজেপি। সরকার গঠনের পরও সেই কমিশনার পদে স্মিতা পাণ্ডেকে রাখা রয়েছে। শুক্রবারের অধিবেশন বাতিল করার পরে পুর-কমিশনারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ক্লাব রুমে অধিবেশন (corporation session) করেন তৃণমূলের কাউন্সিলররা। সেই অধিবেশন শেষ হয়ে গেলে বিজেপির তিন বিধায়ক সজল ঘোষের নেতৃত্বে পুরসভায় আসেন ও কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকের পরে সজলের দাবি, পুরসভার নিয়ম বহির্ভূতভাবে অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। তাই বাতিল হয়েছিল অধিবেশন। সেখানেই প্রশ্ন, পুরসভার কমিশনার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা প্রভাবিত করেছে সব কাউন্সিলরকে। তবে অধিবেশন বাতিল হওয়ার কমিশনারের প্রশংসা কেন বিজেপির মুখে। যেখানে কমিশনার চেয়ারম্যানের অনুমতি ছাড়া অনৈতিকভাবে অধিবেশন বাতিল করেছেন, সেখানে কীভাবে শাসকদলের বিধায়ক তাকে সমর্থন করতে পারেন?

সজল (Sajal Ghosh) অবশ্য সেখানেই থেমে থাকেননি। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ৩ থেকে ৭৭ হতে আমাদের সময় লাগবে না। আমরা এখনই পুরসভা ভেঙে দিতে পারি। কিন্তু আমরা এখন তা করব না। সরকার কমিশনারকে দায়িত্ব দিয়েছে। পুরসভা ভেঙে গেলে তিনি চালিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু আমরা সেই পথে যাব না।

আরও পড়ুন : কর্পোরেশনের অধিবেশন থেকে বুলডোজার: রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের নির্দেশ তৃণমূল নেত্রীর

মাত্র তিনজন বিধায়ক নিয়ে কলকাতা পুরনিগমে অনাস্থা আনার সিদ্ধান্তের পিছনে যে গোটা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বেরই পরিকল্পনা, তাও স্পষ্ট হয়ে যায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) কথায়। তিনি কলকাতা পুরসভা নিয়ে এদিন জানান, নির্দিষ্ট সময়েই নির্বাচন হবে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হবে নির্বাচন। বিধানসভা থেকে তৃণমূলকে সরিয়েছি আমরা। কলকাতা পুরসভা থেকেও সরিয়ে দেব।

–

–
–
–
