নজরে উন্নয়ন। শাসক-বিরোধী সব জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করলেন নদিয়ার (Nadia) কল্যাণীর এপিজে আবদুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জানালেন, “প্রথম থেকেই আমি সবাইকে নিয়ে চলার কথা বলেছিলাম। আমরা বিশেষ বিশেষ সাংসদদের ডাকব। আমরা চাই, কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের আসল সুবিধা বাংলার সাধারণ মানুষ পাক।“
মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলির শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি (BJP) বিধায়ক-মন্ত্রীদের পাশাপাশি যোগ দেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার (Kakoli Ghoshdastider), স্বরূপনগরের তৃণমূল (TMC) বিধায়ক বীণা মণ্ডল, হাড়োয়ার আব্দুল মতিন, বাদুড়িয়ার বুরহানুল মুকাদ্দিম, মিনাখাঁর ঊষারানি মণ্ডল, বসিরহাটের সুরজিৎ মিত্র বাদল এবং দেগঙ্গার সদ্যনির্বাচিত আনিসুর রহমান বিদেশ। আর নিয়েই জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে।

বৈঠক শেষে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা তো ডাক পাইনি ৫ বছর। তাই প্রথম থেকেই আমি সবাইকে নিয়ে চলার কথা বলেছিলাম। আমরা বিশেষ বিশেষ সাংসদদের ডাকব। আমরা চাই, কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের আসল সুবিধা বাংলার সাধারণ মানুষ পাক। শুধু ভোটের সময় কাজ দেখাব, আমাদের সরকার সেই নীতিতে বিশ্বাসী নয়।”

নতুন জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় লক্ষ্যেই এই বৈঠক বলে মত মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর কথায়, “আমরা মূলত জোর দিয়েছি শর্ট টার্মে নবনির্বাচিতদের সঙ্গে সমন্বয়ের উপর। আমরা ঠিক কেমনভাবে রাজ্য চালাতে চাইছি, আমাদের ‘সংকল্প পত্র’ কী- তা প্রতিটি সরকারি দফতরে পৌঁছে যাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। আর সেই উদ্দেশ্যেই এই ধরনের বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে।”

বিশেষ বিশেষ সাংসদ কারা?
প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “যাঁরা অনেকদিন পর সত্যি কথা বলছেন, তাঁরাই বিশেষ বিশেষ সাংসদ। যারা বলছেন, আপনারা আমাদের স্বাধীনতা পাইয়ে দিচ্ছেন।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংবাদমাধ্যমে কাকলি ঘোষদস্তিদারের বক্তব্য তিনি শুনেছেন। এরপরই তাঁকে প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কাকলি সম্পর্কে শুভেন্দু বলেন, ”ওঁকে ডাকতে বললাম। মঞ্চেও ছিলেন। যাওয়ার সময় হাত মেলালেন, বললে এরকম মিটিং আগে দেখিনি। কথাই বলতে দিত না।”

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “আগে বিডিও, ওসি-রাও বিজেপির এমপিদের ফোন ধরতেন না। এই সিস্টেম ঠিক নয়। আজকের প্রশাসনিক বৈঠকে বসিরহাটের একাধিক বিরোধীদলের বিধায়করা এসেছিলেন। তাঁদের মধ্য়ে একজনকে বলার সুযোগ দিয়েছি। আমরা চাই কেন্দ্র-রাজ্য ডবল ইঞ্জিনের সুবিধা মানুষ পান। কেবলমাত্র নির্বাচনের সময়ই রাজনৈতিক কচকচানি হোক।”

বিগত জমানার প্রশাসনিক বৈঠকগুলির ব্যয়বহুল আয়োজনের সমালোচনা করে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগে আপনারা দেখেছেন একটা বৈঠক করতে কত কোটি টাকা ওড়ানো হত! তিন দিন ধরে এলাহি দক্ষযজ্ঞ চলত, হেলিকপ্টার নামত। এখন যেটুকু না করলেই নয়, আমাদের সরকার ঠিক সেটুকুই করছে। আমরা নিজেদের বৈভব দেখাতে চাই না, ক্ষমতা দেখাতেও চাই না।”

–
–
–
