কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেলেন ফলতার জাহাঙ্গীর খান। তাঁর আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের নির্দেশ দিল আদালত। নতুন করে তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়ার যে আবেদন জানানো হয়েছিল, তা খরিজ করে দিয়েছে বিচারপতি পার্থসারথী সেনের সিঙ্গল বেঞ্চ। ফলে আইনি রক্ষাকবচহীন জাহাঙ্গীরকে পুলিশ গ্রেফতার করবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা। এলাকা জুড়ে জোর আলোচনা, এবার কি তবে পুলিশের জালে ধরা দেবেন এই নেতা?
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ফলতায় ভোটের ঠিক আগে পুলিশের অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। ২১ মে ফলতার নির্বাচনকে মাথায় রেখে আদালত প্রাথমিকভাবে মামলাটি গ্রহণও করেছিল। পরবর্তীকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছিলেন, ২৬ মে পর্যন্ত জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারির মতো কোনও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না। তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে রুজু হওয়া পাঁচটি এফআইআর-এর ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল আদালত। তবে সেই সময় আদালতের তরফে কিছু শর্তও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। জানানো হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনের সমস্ত নিয়ম মেনে চলতে হবে জাহাঙ্গীরকে এবং ভোটারদের কোনওরকম ভয় দেখানো বা বাধা দেওয়া চলবে না। পরে অবশ্য পুনর্নির্বাচনের ঠিক কয়েক দিন আগে ফলতার ভোট ময়দান থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন তিনি।
বর্তমানে নির্বাচনের পর্ব মিটে যাওয়ার পর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। ২৫ মে হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত একটি পুলিশি রিপোর্ট জমা পড়ে। সেই রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে, তার প্রতিটিতেই তিনি মূল অভিযুক্ত অথবা তাঁর মদতেই এই ঘটনাগুলি ঘটেছে। রিপোর্ট খতিয়ে দেখে এদিন বিচারপতি পার্থসারথী সেন পর্যবেক্ষণ করেন, বর্তমানে ভোট পর্ব সম্পূর্ণ মিটে গিয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের বিষয়বস্তু সামনে এসেছে। এই অবস্থায় আদালতের সামনে এই মামলার আর কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। এই বলেই জাহাঙ্গীরের আবেদন খারিজ করে তাঁর রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেয় হাইকোর্ট। আদালতের এই কড়া অবস্থানের পর ফলতার রাজনীতির অন্দরে এখন একটাই প্রশ্ন, তবে কি এবার সত্যিই শ্রীঘরে যেতে চলেছেন জাহাঙ্গীর?
_
_
_

_

_

_

_

