দেশজুড়ে জনগণনা বা সেনসাস প্রক্রিয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গেও। এই প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবে রাজ্য জুড়ে পুরোদমে সেনসাস অফিসার নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করল রাজ্য সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের সেনসাস সেলের তরফে প্রকাশিত দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জেলা থেকে শুরু করে পুরসভা স্তর পর্যন্ত একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিককে জনগণনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে জারি করা প্রথম বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের ডিভিশনাল কমিশনারদের “ডিভিশনাল সেনসাস অফিসার” হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। একইভাবে প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের (ডিএম) দেওয়া হয়েছে “প্রিন্সিপাল সেনসাস অফিসার”-এর দায়িত্ব। ব্লক স্তরে কাজ মসৃণ করতে ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিওদের “চার্জ সেনসাস অফিসার” হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম), মহকুমাশাসক (এসডিও) এবং অন্যান্য পদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও জনগণনার এই মহাযজ্ঞের কাজে বিভিন্ন স্তরে যুক্ত করা হয়েছে।
দফতরের তরফে প্রকাশিত দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিতে পুরসভা ও কর্পোরেশন এলাকাগুলির জন্য পৃথকভাবে সেনসাস অফিসার নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। শহরাঞ্চলে এই প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য পুর কমিশনার, পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং বরো অফিসারদের বিভিন্ন স্তরে জনগণনা তদারকির মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এবারের বিজ্ঞপ্তিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও কর্মীদের জন্য কড়া আইনি সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জনগণনার কাজে কোনো রকম বাধা সৃষ্টি করলে কিংবা সরকারের দেওয়া দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকার বা অবহেলা করলে সেনসাস অ্যাক্ট, ১৯৪৮ বা ১৯৪৮ সালের জনগণনা আইন অনুযায়ী কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। এই আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা এবং কারাবাসের মতো কঠোর বিধানও প্রযোজ্য হতে পারে বলে নবান্নর বিজ্ঞপ্তিতে সর্তক করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, লোকসভা ও বিধানসভা আসন পুনর্বিন্যাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের রূপায়ণে এই জনগণনার তথ্য অত্যন্ত জরুরি, তাই কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে আগেভাগেই কোমর বাঁধছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন- লোগো বদল, মেজাজ এক! এবার ‘দুয়ারে সরকার’-এর নাম বদলে শুভেন্দুর ‘জনকল্যাণ শিবির’
_
_
_

_

_

_

