আগামী রবিবার ফের আট ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকছে বিদ্যাসাগর সেতু বা দ্বিতীয় হুগলি সেতু। কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের তরফে বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, রবিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত সেতুর উপর সমস্ত ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। চলবে সংস্কারের কাজ। এর ফলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হবে বিকল্প পথে।

ট্র্যাফিক পুলিশের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এজেসি বোস রোড ধরে জিরাট আইল্যান্ড হয়ে বিদ্যাসাগর সেতুমুখী গাড়িগুলিকে টার্ফভিউ হয়ে হেস্টিংস ক্রসিং থেকে সেন্ট জর্জেস গেট রোড ও স্ট্র্যান্ড রোড হয়ে হাওড়া ব্রিজের দিকে পাঠানো হবে। আবার কিছু যানবাহনকে হেস্টিংস ক্রসিং থেকে ডানদিকে ঘুরিয়ে কেপি রোডে নিয়ে যাওয়া হবে।

একইভাবে, কেপি রোড থেকে জে অ্যান্ড এন আইল্যান্ড হয়ে বিদ্যাসাগর সেতুমুখী গাড়িগুলিকেও ১১ ফার্লং গেট হয়ে হেস্টিংস ক্রসিং থেকে সেন্ট জর্জেস গেট রোড ও স্ট্র্যান্ড রোড ধরে হাওড়া ব্রিজের দিকে পাঠানো হবে। খিদিরপুর দিক থেকে সিজিআর রোড ধরে আসা যানবাহনগুলিকেও হেস্টিংস মোড় থেকে বাঁদিকে ঘুরিয়ে হাওড়া ব্রিজমুখী করা হবে। অন্যদিকে, কেপি রোড ধরে বিদ্যাসাগর সেতু হয়ে যাওয়া গাড়িগুলিকে ঘোড়া পাসের কাছে ওয়াই পয়েন্ট র্যাম্প থেকে রেড রোড ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাওড়া ও সাঁতরাগাছির সঙ্গে কলকাতার সংযোগের অন্যতম প্রধান সড়কপথ এই বিদ্যাসাগর সেতু। নবান্নে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এই সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন হাজার হাজার ছোট-বড় গাড়ি এই সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করে। তবে দীর্ঘ ২৭ বছরের ব্যবহারের ফলে সেতুর বিভিন্ন অংশে সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সেতু বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও সেতু টানা ২৫ বছর ব্যবহারের পর তার রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। সেই কারণেই স্টে কেবল, হোল্ডিং ডাউন কেবল, ডেক স্ল্যাব ও এক্সপ্যানশন জয়েন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশ বদলের কাজ শুরু হয়েছে। বিদ্যাসাগর সেতুতে মোট ১৫০টি স্টে কেবল রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সেই কেবলগুলিকেই বদলানোর কাজ চলছে বলে জানা গিয়েছে।

এই সংস্কারের জন্য গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রতি রবিবার সেতু বন্ধ রাখা হচ্ছে। ফলে সাধারণ যাত্রী ও নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। অনেকের প্রশ্ন, দিনের পরিবর্তে রাতের দিকে কেন এই কাজ করা হচ্ছে না। যদিও সেতু কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশেষ প্রযুক্তিগত কারণে নির্দিষ্ট সময়েই এই কাজ করা সম্ভব।

আরও পড়ুন – আইনি যুদ্ধ অব্যাহত, ভিনেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে WFI

_
_
_
_
