এসআইআরের পরই সেই পথ ধরে হবে জনগণনা। কেন্দ্রের সরকার আগেই নির্ধারিত করে দিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে যেভাবে বিনা প্রস্তুতিতে বাংলায় এসআইআর (SIR) হয়েছিল, সেই পথেই কী বিনা প্রস্তুতিতে জনগণনার কাজ হবে? সেই প্রশ্নের মাঝেই এবার জনগণনা (Census 2027) নিয়ে সম্মেলন নবান্নে (Nabanna)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) অনুপ্রবেশকারীদের সতর্ক করছেন জনগণনা শুরু হওয়ার আগে ভারত ছাড়তে। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যে জনগণনা নিয়ে যে তৎপর হবেই রাজ্য সরকার, তার প্রমাণ এই সম্মেলন।

শুক্রবার নবান্ন সভাঘরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘প্রিন্সিপাল সেন্সাস অফিসার্স’ কনফারেন্স। ওই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নিজে। নবান্ন সূত্রে খবর, জনগণনা প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে জেলা প্রশাসন, পুরসভা এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বাড়ি তালিকাকরণ (listing), প্রশাসনিক সীমানা হালনাগাদ, তথ্য সংগ্রহের জন্য কর্মী প্রস্তুতি এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো (digital infrastructure) গড়ে তোলার কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হতে পারে বলেই প্রশাসনিক মহলের ইঙ্গিত।

ইতিমধ্যেই সেন্সাস অফিসার নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের সেনসাস সেলের তরফে প্রকাশিত দুই পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জেলা থেকে পুরসভা স্তর পর্যন্ত একাধিক আধিকারিককে জনগণনার (Census 2027) কাজে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারই মধ্যে রাজ্যে যে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা বিএলও হিসাবে কাজ করেছিলেন, তাঁদের ফের জনগণনার কাজে নিযুক্ত করার গুঞ্জনও শুরু হয়েছে।

তবে এখনও শীর্ষ স্তরে কোন আধিকারিকরা এই জনগণনা পরিচালনা করবেন, তা-ই রাজ্যে এখনও নিশ্চিত হয়নি। রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডিভিশনাল কমিশনারদের “ডিভিশনাল সেনসাস অফিসার”, জেলাশাসকদের “প্রিন্সিপাল সেনসাস অফিসার” এবং বিডিওদের “চার্জ সেনসাস অফিসার” হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। অন্য একটি বিজ্ঞপ্তিতে পুরসভা ও পুরনিগম স্তরেও সেনসাস অফিসার নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। সেখানে পুর কমিশনার, এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং বরো অফিসারদের বিভিন্ন স্তরে জনগণনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান কলকাতায়! ২১ জুন তিলোত্তমায় প্রধানমন্ত্রী

কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি এই কাজের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ডিজিটাল পরিকাঠামো (digital infrastructure) গড়ে তোলা। জনগণনা প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত ডেটা আপলোডের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেই কারণেই আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো তৈরির কাজ সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

–

–
–
–
