এবারের একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণসভা কার্যত চতুর্মুখী। তবে এবারের সভাতে একটু বাড়তি অক্সিজেন পেল কংগ্রেস।  প্রত্যেকবারই কংগ্রেস শহিদ স্মরণসভা পালন করলেও তার সব আলো শুষে নিত তৃণমূলের একুশে জুলাই সমাবেশ। তবে এবার তৃণমূলের মধ্যেই মমতাপন্থী ও ঋতব্রতপন্থী ভাগ হওয়ায় নিজেদের দলেও কিছু ফায়দা তুলতে মরিয়া প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাই বহু বছর পরে কার্যত মাঠে নেমে স্মরণসভা করতে দেখা গেল কংগ্রেসকে। তবে স্বভাব সিদ্ধভাবেই কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দল ধরা পড়লো একুশের সভামঞ্চেও। অধীররঞ্জন চৌধুরী মঞ্চে বক্তৃতা দিতে উঠলেই, 'শুভঙ্কর সরকার (প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি) জিন্দাবাদ' স্লোগান দিতে থাকেন শুভঙ্করপন্থীরা। যদিও সহাস্যে পরিস্থিতি সামাল দেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। 

তবে কংগ্রেসের এই সভাতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। এই ভিড় দেখে শুভঙ্করের মুক্ত কণ্ঠে প্রশংসা করতে দেখা যায় অধীরকে। তিনি বলেন, "আজকের ভিড় শহিদ মিনার ছাপিয়ে গিয়েছে। দলের কর্মীদের পুলিশ আসতে দিচ্ছে না। এই পরিস্থিতে শহিদ মিনারে এত বড় জমায়েত কংগ্রেসের কাছে বড় সাফল্য। এ তো সবে ট্রেলার, পরিবর্তন হবেই। পরের লোকসভা থেকে তার ছবি সামনে আসবে।” শহিদ স্মরণের মঞ্চ থেকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লাগাতার আক্রমণ করেন অধীর।

আরও পড়ুন: গদ্দারদের দেখলেই নিজের ভোট ফেরত চান: তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বার্তা কুণালের

মঞ্চ থেকে শুভঙ্কর সরকার জানান, শহিদ মিনারে আসার পথে ১১ জন জখম হয়ে আর জি কর হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসাধীন।  এই মঞ্চ থেকেই আগামী বছরের কর্মসূচি ঘোষণা করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জানান, ৯ আগষ্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিবাদে টানা পথসভার আয়োজন করা হবে। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন মধ্যরাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এদিন মঞ্চ থেকে বিগ্রেডে সভার ডাক দিলেন শুভঙ্কর সরকার। ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি দিনে বিগ্রেডে সভা করবে কংগ্রেস। শুকঙ্কর জানান, সেই সভায় উপস্থিত থাকবেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। একুশের মঞ্চ থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করেন যুব কংগ্রেস নেতা উদয় ভানুও।