বেআইনি নির্মাণ রুখতে রাজ্যের পৌর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল টাকিতে। যে পুর প্রশাসনের আমলেই একের পর এক বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ, সেই প্রশাসনকেই এবার সেই নির্মাণ চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাম, কংগ্রেস ও বিজেপির তরফে এই নির্দেশিকার নিরপেক্ষতা নিয়ে সরব হওয়া হয়েছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ারও ইঙ্গিত মিলেছে।

গত ১৫ মে রাজ্যের পৌর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তরফে জারি হওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সমস্ত পুর প্রশাসনকে অবিলম্বে বেআইনি ও এক্তিয়ার বহির্ভূত নির্মাণ চিহ্নিত করে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অনুমোদন ছাড়া নতুন নির্মাণ রুখতেও কড়া নজরদারির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু টাকিতে এই নির্দেশ কার্যকর হবে কতটা, তা নিয়েই সংশয় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়দের একাংশ।

অভিযোগ, গত কয়েক বছরে টাকিতে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ, হোটেল ও গেস্ট হাউস গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে কয়েকটি নির্মাণ নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে মামলা বিচারাধীন। টাকি রাজবাড়ি ঘাট সংলগ্ন একটি গেস্ট হাউসের মালিকানায় শাসকদলের এক নেতার নাম জড়িয়েছে বলেও দাবি বিরোধীদের। এছাড়াও দিশা গেস্ট হাউস-সহ আরও একাধিক নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

শুধু নির্মাণ নয়, পুরসভার জমি লিজ দেওয়া নিয়েও উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা এক অডিট রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বছরে মাত্র ১২০ টাকায় বিলাসবহুল রিসর্ট নির্মাণের জন্য জমি লিজ দেওয়া হয়েছে। আবার মাত্র কয়েকশো টাকার বিনিময়ে একাধিক বিঘা জমি ইটভাটার ব্যবসার জন্য লিজ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সেই ইটভাটার মালিকের সঙ্গে পুর প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি বিরোধীদের।

এছাড়াও ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আর্থিক তছরুপ, স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, নিয়ম বহির্ভূতভাবে এক পুরকর্মীর অ্যাকাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকা ঢুকেছে। এমনকি ইছামতী নদীতে ভাসমান রেস্তোরাঁ প্রকল্প ঘিরেও প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন পুর বোর্ডের বিরুদ্ধে।

এই পরিস্থিতিতে টাকির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। বিজেপি নেতা তথা চিকিৎসক ডা. শৌর্য্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যাঁদের আমলে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাঁরাই যদি তদন্তের দায়িত্ব পান, তাহলে সত্য সামনে আসবে না। নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি।” তাঁর দাবি, শুধু টাকি নয়, বসিরহাট মহকুমার অন্যান্য পুরসভাতেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

যদিও পুর প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে পৌর ও নগরোন্নয়ন দফতরের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ও কমপ্লিশন সার্টিফিকেট যাচাই না করে কোনও মিউটেশন করা যাবে না। পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক পরিদর্শন দল গঠন করে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন – সীমান্তে BSF-কে জমি দিয়ে শাহর প্রশংসা কুড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
_
_
_
