আংটি চুরির অপবাদ দিয়ে বাড়ির পরিচারিকার উপর বেধড়ক অত্যাচারের অভিযোগ টলিউড অভিনেতা সম্রাট মুখোপাধ্যায়ের (Tollywood Actor Samrat Mukherjee) বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) নিন্দার ঝড়। চারিদিকে যখন নারী সুরক্ষা ও মানবাধিকার নিয়ে এত কর্মকাণ্ড ঠিক তখনই শিক্ষিত সেলিব্রেটির এই আচরণ ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত মহিলা বিগত এক মাস ধরে সম্রাটের টালিগঞ্জ (Tollygunj) এলাকার সংলগ্ন ধারাপাড়ার বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করছিলেন। বাড়িতে কোনও কিছু হারিয়ে গেলেই তাঁর ওপর নিত্যদিন দোষ চাপানো হতো। তবে গত ২৭ মে (বুধবার) অত্যাচারের সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। সম্রাট তাঁর আংটি খুঁজে না পাওয়ায় সব আক্রোশ গিয়ে পড়ে পরিচারিকার উপরে। ‘চোর’ অপবাদ দিয়ে জোর করে মহিলার ব্যাগ তল্লাশি থেকে শুরু করে তাঁকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। এরপর অভিনেতা নাকি বাড়ির দারোয়ানকে ডেকে অ্যাসিড এবং লাঠি নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে সেই লাঠি নিয়ে ওই অসহায় মহিলার ওপর নির্মমভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন অভিযুক্ত সম্রাট! নৃশংস আঘাতে মহিলার মাথা ফেটে যায়।রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে মেঝেতে ফেলে দিয়ে কানে ও মাথায় বুট দিয়ে মাড়িয়ে যাওয়া হয় এবং বুকে, পিঠে, পেটে অনবরত লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ।অমানুষিক অত্যাচারের পর পরিচারিকাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তাঁর মাথায় চারটি সেলাই পড়েছে। দেহের একাধিক জায়গায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। এই ঘটনার পর বুধবার রাতেই নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে হরিদেবপুর থানায় (Haridebpur Police Station) একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

সম্রাটকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি তাঁকে কোনওভাবেই মারধর করিনি। তিনি নিজেই নিজেকে আহত করেছেন। আংটি খুঁজে না পাওয়ায় আমার দারোয়ান তাঁর উপর সন্দেহ করেছিল। পরবর্তীতে তিনি পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে, আমার বাড়ির সিঁড়ি থেকে পড়ে যান। গ্রিলে মাথা ঠুকে যায়। এখানে আমার ওঁকে মারধর করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।’ পাশাপাশি তাঁকে ‘ফাঁসানো হচ্ছে’ বলেও দাবি করেছেন অভিনেতা।হরিদেবপুর থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

–

–

–

–

–
–
