যিনি গানে গানে বলেছিলেন, “মনে করো আমি নেই বসন্ত এসে গেছে”, সেই কিংবদন্তি শিল্পী বিদায় নিলেন ভরা গ্রীষ্মে। নিঃশব্দে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। রবিবার (৩১ মে ২০২৬) প্রয়াত বর্ষীয়ান সুমন কল্যাণপুর (Suman Kalyanpur)। গত কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। অবশেষে সুরের মায়া কাটিয়ে ৮৯ বছর বয়সে মুম্বইয়ের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। শোকাহত সাংস্কৃতিক জগৎ।

অজস্র বাংলা গান গাইলেও সুমনের শিকড় আদতে কর্নাটকের। আসল পদবি ‘হেমাডি’। ১৯৩৭ সালের ২৮ জানুয়ারি অবিভক্ত ভারতের ঢাকায় (বর্তমান বাংলাদেশ) জন্ম। পরবর্তীতে ওঁর পরিবার মুম্বইয়ে চলে আসে। জে জে স্কুল অফ আর্টস-এ ছবি আঁকা শেখার পাশাপাশি পণ্ডিত কেশবরাও ভোলে ও ওস্তাদ খান আবদুল রহমান খানের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নেন। ১৯৫২ সালে আকাশবাণীতে প্রথম গান গেয়েছিলেন তিনি। ১৯৫৩ সালে, মারাঠি ছবি ‘শুকরচি চাঁদনি’-তে গান করেন সুমন। ১৯৫৪ সালে ‘মঙ্গু’ ছবি দিয়ে হিন্দি প্লেব্যাকের দুনিয়ায় পা রাখেন তিনি। কণ্ঠস্বর ছিল অবিকল লতা মঙ্গেশকরের মতো। ‘আজকাল তেরে মেরে পেয়ারকে চর্চে’ গানের কথা বললেই সকলে একবাক্যে বলে উঠবেন এই গান লতার গাওয়া। কিন্তু এই গানের গায়িকা ছিলেন সুমন কল্যাণপুর (Suman Kalyanpur)। অনুকরণ নয়, লতাকে অনুসরণ করেই গান গাওয়া শুরু করেছিলেন তিনি। হয়তো সেই কারণেই আজীবন প্রবাদ-প্রতিম শিল্পীর ছায়া হয়েই থেকে যেতে হল। শঙ্কর জয়কিষণ, রোশন, মদনমোহন, শচীনদেব বর্মন, নৌশাদ, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, তালাত মামুদের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে কাজ করেছেন সুমন। তাঁর কণ্ঠের জাদুতে অমলিন সুর বেজে উঠত শ্রোতার হৃদয়তন্ত্রীতে। হিন্দি ও মারাঠির পাশাপাশি বাংলাতেও বেশকিছু গান গেয়েছেন তিনি। সুমনের প্রয়াণে ভারতীয় মার্গ ও লঘু সঙ্গীতের একটি সোনালী যুগের অবসান হল।

–

–

–

–

–

–
