জমানো টাকা দিয়ে কিনেছিলেন নতুন মোটরবাইক (Motorcycle)। শোরুম থেকে বাইক নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন নিউ টাউনের হাতিয়ারার বাসিন্দা সুকুমার সরকার (Sukumar Sarkar)। বেশ কিছুদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর বুধবার তাঁর ব্রেন ডেথ (Brain Death) ঘোষণা করা হয়। পরিবারিক সিদ্ধান্তে মরণোত্তর অঙ্গদান করা হয়। । সুকুমারের অঙ্গে নতুন জীবন পেলেন তিনজন। আরও দু’জনের দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

রবিবার নিউ টাউনের ইকো পার্কের কাছে একটি ছোট ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে সুকুমারের (Sukumar Sarkar) বাইকের। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে ইএম বাইপাসের একটি মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু বুধবার তার ব্রেন ডেথ ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

মাত্র ছ’মাস আগে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে চাকরি পেয়েছিলেন সুকুমার। সন্তানের মৃত্যুতে পরিবারের লোকজন ভেঙে পড়েন। কিন্তু তার মধ্যেও সুকুমারের বাবা মানবেন্দ্র সরকার ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁর অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন। পূর্বাঞ্চলীয় রোটো (রিজিওনাল অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশন)–র মাধ্যমে সুকুমারের লিভার ওই বেসরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন এক সিরোসিস রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়। একটি কিডনি যায় এসএসকেএম হাসপাতালে এবং অন্য কিডনিটি আরএন টেগোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীকে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই একটি বেসরকারি আই ব্যাঙ্ক সুকুমারের কর্নিয়াও সংগ্রহ করেছে। শুধু তাই নয়, সুকুমারের হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসও প্রতিস্থাপনের উপযুক্ত থাকলেও রাজ্যে উপযুক্ত গ্রহীতা নেই। তাই নোটো (ন্যাশনাল অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশন)–র মাধ্যমে সেগুলি অন্য রাজ্যে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সুকুমারের অকালমৃত্যু নতুন করে জীবন দিয়েছে বেশ কিছু মানুষের- এখনই একটাই সান্ত্বনা পরিবারের।

–

–

–

–
–
–
