অন্নপূর্ণা যোজনায় তোলাবাজির অভিযোগ! বিজেপি কর্মীর নিশানায় দলেরই বিধায়ক

Date:

Share post:

ক্ষমতায় আসার একমাসের মধ্যেই বীরভূমে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার গেরুয়া শিবির। এবার খোদ রাজ্য সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় তোলাবাজি এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে, শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে দল ছাড়লেন বিজেপির এক প্রবীণ কর্মী। ফেসবুক লাইভ চলাকালীনই ক্ষোভে-বিক্ষোভে নিজের গায়ে থাকা গেরুয়া লোগোযুক্ত জামা ছিঁড়ে দলত্যাগের ঘোষণা করেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনাটি হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেসও।

বীরভূমের নলহাটির বাসিন্দা, বিজেপির ওই কর্মীর নাম সুবোধ সরকার। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক তথা নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্য ধ্রুব সাহা এবং জেলা সভাপতি উদয়শংকর সাহার বিরুদ্ধে সরাসরি আর্থিক দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। ওই বিক্ষুব্ধ কর্মীর দাবি, রামপুরহাটের বিধায়ক এবং জেলা সভাপতি দীর্ঘদিন ধরে বীরভূমে বালি ও পাথর থেকে তোলাবাজি চালাচ্ছেন। প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের টাকার লেনদেন হচ্ছে। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি দিল্লির কেন্দ্রীয় দফতরে ইমেল মারফত অভিযোগ জানালেও কোনও লাভ হয়নি।

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় রাজ্য সরকারের নতুন সামাজিক প্রকল্প অন্নপূর্ণা যোজনাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারী কর্মীর বক্তব্য, ২০১১ সাল থেকে তিনি দল করছেন। যখন জেলায় বিজেপির লোক পাওয়া যেত না, তখন পুরনো কর্মীরাই বুক দিয়ে দল টিকিয়ে রেখেছিলেন। অথচ এখন সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে চলা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এবং সত্য কথা বলায় তাঁকে খোদ বিধায়কের তরফ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর নামে বা অন্নপূর্ণা যোজনার দুর্নীতি নিয়ে কোনও ভিডিও করা যাবে না বলে চাপ দেওয়া হচ্ছে, এমনকি পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানোর ভয় দেখানো হচ্ছে। যে দলে সত্য বলার অধিকার নেই, সেখানে আর থাকবেন না জানিয়ে লাইভ ভিডিওতেই বিজেপির লোগো দেওয়া জামা ছিঁড়ে ফেলেন তিনি।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির অন্দরের কেলেঙ্কারি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সমাজমাধ্যমে ওই কর্মীর বিস্ফোরক ভিডিও শেয়ার করে জোড়াফুল শিবিরের কটাক্ষ, এটি ‘বিজেপি বনাম বিজেপি’-র আসল রূপ। ক্ষমতা পাওয়ার একমাসের মধ্যেই এদের আসল চেহারা বেরিয়ে পড়েছে। নিজেদের নিষ্কলঙ্ক দাবি করা শুভেন্দু অধিকারী এই অস্বস্তিকর সত্যের মুখোমুখি হতে না পেরে এখন আত্মগোপন করে আছেন। দিল্লির সবুজ সংকেত ছাড়া তোলাবাজিতে ডুবে থাকা বিধায়কদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার ক্ষমতা রাজ্যের নেতাদের নেই বলেও খোঁচা দিয়েছে তৃণমূল।

আরও পড়ুন- ভাঙার পথে কলকাতা পুরসভা? মেয়রের ইস্তফার পরেই শোকজ নবান্নর

_

_

_

_

_

_

spot_img

Related articles

গ্রেফতার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত

ভোট-পরবর্তী হিংসা ও তোলাবাজি-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। শনিবার রাতে...

বাড়িতে পড়ে গিয়ে জখম অশোক ভট্টাচার্য, মাথায় পড়ল ছ’টি সেলাই 

নিজের বাড়িতে আচমকা পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র অশোক ভট্টাচার্য।...

দক্ষিণেশ্বরে খুনের চেষ্টা মদন মিত্রকে

দক্ষিণেশ্বরে খুনের চেষ্টা বিধায়ক মদন মিত্রকে। শনিবার রাত ১১টা নাগাদ মদন ফোনে জানালেন, প্রাণে বেঁচে গেলাম। আজ আমাকে...

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি! আবার যন্তর মন্তরেই জমায়েতের ডাক CJP-র, জল্পনা

এক মাসেরও কম সময়ে সংগঠিত। শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় নীতিগত প্রচার। নেতৃত্ব বা কমিটি নিয়ে কোনও আতিশয্য নেই। তারপরেও...