দক্ষিণেশ্বরে খুনের চেষ্টা বিধায়ক মদন মিত্রকে। শনিবার রাত ১১টা নাগাদ মদন ফোনে জানালেন, প্রাণে বেঁচে গেলাম। আজ আমাকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করেছিল বিজেপি।

কী হয়েছিল? রাত তখন সাড়ে ৯টা-১০টা। ১৪ নম্বরের কাউন্সিলর অরিন্দম ভৌমিক ফোন করেন মদন মিত্রকে। বলেন, দাদা একটু আসবেন? এখানে সারাক্ষণ শুধু হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মদন তখন এমএলএ অফিসে ছিলেন। সেখান থেকেই সোজা অরিন্দমের কাছে। পৌঁছে তাঁরা কথা বলছেন। হঠাৎ দলের একজন এসে জানালেন, বাইরে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন ছেলে জড়ো হয়েছে। তাদের হাতে বোমা, পিস্তল, ধারালো অস্ত্র। একটু দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। মদন মিত্র বেরলেই আক্রমণ করা হবে। বিজেপির পোষা গুন্ডারা ওখান থেকে না সরায় মদন তখন নিজেই বের হন। সামনেই দেখেন এলাকার দাগি অপরাধী আনোয়ারের দলের লোক মকসুদ দাঁড়িয়ে আছে। তাকে ডাকলেন। জিজ্ঞেস করলেন কী ব্যাপার? মকসুদ মদ্যপ ছিল এবং ঘামছিল। মদনের কথায় বলে, ‘নেহি দাদা, আমাদের প্রোগ্রাম ছিল।’ মদন বলছেন, বুঝতে পারছি ওদের মনে মনে কিছু একটা ঘুরছে। ফোর্স ডাকলাম। কোথায় পুলিশ? মুখ ঘোরাতেই দেখলাম মকসুদ, দিলশাদ, বিকাশ— ওরা চেঁচিয়ে বলল অ্যাটাক। আমি আমার গাড়ির দিকে ছুটছি। ওরা আমাদের পিছনে। ওরা ভেবেছিল আমি গাড়িতে উঠে গিয়েছি। কিন্তু এলাকার মানুষ আমাকে ভালবাসেন তাই ছুটতে দেখে একজন বাড়ির দরজা খুলে টেনে ভিতরে ঢুকিয়ে নেন। ওরা তখনও গাড়িকে টার্গেট করে ঢিল, লাঠি, পাথর ছুঁড়ছে। ওদের হাতে পড়লে আজ রাস্তাতেই মৃত্যু হত। মদন জানালেন, পুলিশ এসেছিল, মাত্র তিনজন, তাও দেড় ঘণ্টা পরে। আসলে এলাকা দখল করার জন্য ওরা মূলত মুসলিম ছেলেদের বলেছে হয় মারামারি করো, নয়তো তুলে নেব। ওরা বাঁচতে আমাকে মারতে এসেছিল। রাতেই পুলিশে অভিযোগ জানান বিধায়ক। বলেন, এটাই হচ্ছে পরিবর্তন। তৃণমূল নেতাদের খুন করে জনরোষ বলে চালানোর চেষ্টা শুরু হয়ে গিয়েছে বাংলায়।

আরও পড়ুন – প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি! আবার যন্তর মন্তরেই জমায়েতের ডাক CJP-র, জল্পনা

_

_

_

_

_
_
_
_
