আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই কারও সম্মানহানি করতে পারে না। কিন্তু উচ্চ আদালতের সেই কড়া পর্যবেক্ষণকে কার্যত তোয়াক্কাই করল না পুলিশ। আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ফের এক অভিযুক্তকে হাফ প্যান্ট পরিয়ে, কলার ধরে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অপরাধ দমনে পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তা বা ‘স্ট্রিট জাস্টিস’ নিয়ে রাজ্যজুড়ে জোর চর্চা চলছে। এবার সেই তালিকায় জুড়ল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার সরারহাটের নাম।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনকয়েক আগে ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার হয় জাহাঙ্গির খান। তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু অভিযোগ, হেফাজতে নিয়ে কেবল জিজ্ঞাসাবাদ করাই নয়, বৃহস্পতিবার তাকে কার্যত প্রকাশ্য রাস্তায় নামিয়ে ঘোরানো হয়। ফলতার আইসি পার্থসারথি ঘোষের নেতৃত্বাধীন পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, আদালতের নির্দেশিকাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই জাহাঙ্গিরকে হাফ প্যান্ট পরিয়ে, কলার ধরে রাস্তায় হাঁটিয়ে এক প্রকার ‘স্ট্রিট জাস্টিস’ বা তাৎক্ষণিক বিচারের প্রবণতা বজায় রাখা হলো। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাস পার হতে না হতেই পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে ইতিউতি নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীদের একাংশের মতে, এই ঘটনা কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে সরাসরি বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখানোর শামিল। এর আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে বা হাফ প্যান্ট পরিয়ে রাস্তায় হাঁটানোর একাধিক ঘটনা সামনে এসেছিল। সেই সময় এই প্রবণতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এই সংক্রান্ত কয়েকটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এবং বিচারপতি মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছিল, অভিযুক্ত হলেও কারও আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার এভাবে খর্ব করা যায় না। একই সঙ্গে এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সবিস্তার লিখিত রিপোর্টও তলব করেছিল উচ্চ আদালত। আইনি মহলের বড় অংশের প্রশ্ন, আদালতের এমন কড়া অবস্থান এবং লিখিত রিপোর্ট তলব করার পরেও পুলিশের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনোভাবের উৎস কোথায়?
আরও পড়ুন- কৃষকবন্ধুর বিদায়! কেন্দ্রের প্রকল্পে কপালে চিন্তার ভাঁজ বাংলার কৃষকদের
_
_
_

_
_

_
_

