স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করে ফেলা একটা দেশ আজ হইচই ফেলে দিয়েছে। হেভিওয়েট স্পেনকে আটকে দিয়েছে কেপ ভার্দে। বলা ভাল, বছর চল্লিশের গোলকিপার ভোজিনহার হাতে আটকে গেল ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। কে এই কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা(Vozinha )?

বয়স ৪০, কিন্ত গোলের নীচে অপ্রতিরোধ্য, বয়স যে একটা সংখ্যা মাত্র সেটা বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রমাণ করলেন ভোজিনহা(Vozinha )।স্পেনের বিরুদ্ধে ৭টি সেভ করেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক গোলকিপার হিসেবে ক্লিনশিট রাখার নজির এখন তাঁর নামে।

১৯৮৬ সালে কেপ ভার্দেতে জন্ম জোসিমার জোসে ইভোরা দিয়াজের। ভোজিনহা নামেই আজকে যিনি পরিচিত। বর্তমানে খেলেন পর্তুগালের দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব চাভেসে। ছোট থেকে বাবা মার সহচার্য পাননি। দাদু দিদার কাছেই মানুষ হন।

কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার পর ভোজিনহা চেয়েছিলেন জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে। বয়সের কারণে অবসর নিয়ে কোনও তরুণকে জায়গা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। কেপ ভার্দের বাকি খেলোয়াড়রা ভোজিনহাকে একপ্রকার জোর করে দলে রাখেন। ভোজিনহা এই বিশ্বকাপ খেলেই ফুটবলকে বিদায় জানাবেন।

সারাজীবন একমনে ভালবেসে ফুটবল খেলে যাওয়া ভোজিনহার এই প্রথম আর এই শেষ বিশ্বকাপ।

ম্যাচ শেষে চোখে জল নিয়ে বেন, “আমি অত্যন্ত গর্বিত। নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা আমার কাছে বিরাট সম্মানের বিষয়। আমরা ছোট একটি দেশ থেকে এসেছি। ক্যামেরুন এবং লিবিয়ার মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে লড়াই করে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া সহজ ছিল না। তবে আজ আমার কষ্ট হচ্ছে দাদুর জন্য, তিনি এখা্নে থাকলে খুব খুশি হতেন, কিন্ত কয়েক বছর আগেই তিনি মারা গিয়েছেন।”

কেপ ভার্দে। জনসংখ্যা ৫ লাখের আশে পাশে। কলকাতার কোনও একটি লোকসভা কেন্দ্রেও এর চেয়ে অনেক বেশি ভোটার থাকে। পৃথিবীর দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। আফ্রিকা মহাদেশের পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত একটি দ্বীপরাষ্ট্র। ১৫০০ খ্রীষ্টাব্দের আশেপাশে পর্তুগিজরা এই দ্বীপ আবিষ্কার করে। ১৯৭৫ সালে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়। দেশটির নাম এর আগে অধিকাংশই শোনেনি। এবারও বিশ্বকাপ খেলতে পারে, আমাদের ভারতবর্ষ শুধুই ব্লু প্রিন্ট করে যায়।

গ্রুপ ‘এইচ’ পরিণত হল গ্রুপ অফ ডেথে! কেপ ভার্দের স্পেনকে আটকে দেওয়ার পর উরুগুয়েকে আটকে দিল সৌদি আরব। এদিন প্রথমার্ধে আল আমরির গোলে এগিয়ে যায় সৌদি আরব ৮০ মিনিটে গোল শোধ করেন উরুগুয়ের আরাউহো!
–
–
–
–
