‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল, দিল্লি আর নবান্ন(Nabnna) একসঙ্গে চললে উন্নয়নের পথে কোনও বাধা থাকবে না। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পরেও বাস্তব ছবিটা কি সত্যিই বদলেছে? সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এল রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক চিঠিকে ঘিরে।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ এবং সেচ পরিকাঠামো উন্নয়নের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের কাছে ফের অর্থ সাহায্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে নবান্ন(Nabanna)। প্রায় ১৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকার কেন্দ্রীয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে। অর্থাৎ, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও বাংলার বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্পগুলির জন্য এখনও দিল্লির দরজায় কড়া নাড়তে হচ্ছে রাজ্যকে।

রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, যদি সত্যিই ‘ডবল ইঞ্জিন’ মডেল এত কার্যকর হয়, তাহলে ক্ষমতায় আসার পরও কেন অর্থ বরাদ্দের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানাতে হচ্ছে? কেন এখনও ঝুলে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীভাঙন রোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প?

জানা গিয়েছে, গত ৫ জুন জলশক্তি মন্ত্রকের সচিবকে পাঠানো চিঠিতে রাজ্যের তরফে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে পাঁচটি প্রকল্পের খরচ, কেন্দ্র-রাজ্যের আর্থিক অংশীদারিত্ব, উপকৃত জেলার সংখ্যা এবং বর্তমান অবস্থান। শুধু তাই নয়, অতীতে পাঠানো সমস্ত চিঠির উল্লেখও করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই দাবিগুলি নতুন নয়; বহুদিন ধরেই কেন্দ্রের কাছে ঝুলে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ দেশের নিম্ন অববাহিকার রাজ্য হওয়ায় গঙ্গা-পদ্মা-তিস্তা-সহ একাধিক আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক নদীর শেষ প্রবাহ এসে মেশে এখানে। ফলে প্রতি বছর বন্যা, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস এবং পলিমাটির চাপে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। সেই প্রেক্ষিতে এই প্রকল্পগুলির গুরুত্ব নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ বারবার দাবি করেছিল, কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের কারণেই বাংলার উন্নয়ন আটকে রয়েছে। এখন একই রাজনৈতিক দলের সরকার দিল্লি এবং নবান্ন— দুই জায়গাতেই। তবু যদি প্রকল্পের টাকা পেতে চিঠি পাঠাতে হয়, তাহলে ‘ডবল ইঞ্জিন’-এর প্রতিশ্রুতির বাস্তব ফল কোথায়?
রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, এই চিঠি একদিকে যেমন বন্যা ও নদীভাঙন সমস্যার গুরুত্ব তুলে ধরছে, অন্যদিকে তেমনই ‘ডবল ইঞ্জিন’ তত্ত্বের বাস্তব কার্যকারিতা নিয়েও নতুন প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করছে। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বাংলার পাওনা আদায়ের লড়াই যে এখনও শেষ হয়নি, নবান্নের এই চিঠিই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

–

–
–
–
–
