১২তম যোগ দিবসের কলকাতায় উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। তার আগে ১৯ জুন রাজ্যজুড়ে হবে ম্যারাথন (Marathon)। কলকাতায় ‘রান ফর যোগা’ (Run For Yoga) হবে কলকাতা কর্পোরেশনের (KMC) সামনের। বৃহস্পতিবার, নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গে যোগচর্চা ইচ্ছাকৃত ভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল ‘ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি’ এবং ‘তোষণের এজেন্ডা’র কারণে।

এদিন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “যোগ আজ বিশ্বসমাদৃত। ১৭৫টির বেশি দেশ এটাকে গ্রহণ করেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে একটা নেগেটিভিটি তৈরি করা হয়েছিল। কেউ কেউ যোগকে তাদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক এজেন্ডা, গোপন এজেন্ডা এবং তোষণের রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেছিলেন। সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গ অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছিল।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ঘিরেই নতুন রাজনৈতিক তরজা শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। কারণ, নাম না করলেও তাঁর নিশানায় যে পূর্বতন তৃণমূল সরকার, তা বক্তব্যের পরের অংশেই স্পষ্ট হয়ে যায়। শুভেন্দুর দাবি, গত ১১ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এবং ভারতের প্রায় সব রাজ্যে যোগ দিবসকে ঘিরে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও পশ্চিমবঙ্গে সরকারিভাবে সেই উৎসাহ দেখা যায়নি।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার এত দিন পরে প্রথম বার সরকারি ভাবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে অংশগ্রহণ করছে। অন্য রাজ্যগুলি যে কাজ বহু বছর আগে শুরু করেছে, আমরা এখন তা কার্যকর করব।”

১২ তম যোগ দিবস উপলক্ষ্যে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
১৯ জুন রাজ্যজুড়ে হবে ম্যারাথন, কলকাতায় ‘রান ফর যোগা’
২০ জুন গঙ্গাবক্ষে বিশেষ কর্মসূচি, নাম ‘বন্দে যোগম’
২১ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে রেড রোডে উদযাপিত হবে যোগ দিবস

শুধু যোগ নয়, আয়ুষ ব্যবস্থাকেও নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “আয়ুর্বেদ থেকে হোমিওপ্যাথি- আয়ুষের বহু ক্ষেত্র পশ্চিমবঙ্গে অবহেলিত ছিল। সেই জায়গাগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।”

যোগের উৎপত্তি নিয়েও রাজনৈতিক বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, “মুনি-ঋষিদের এই আধ্যাত্মিক ভূমিতেই যোগের বিকাশ হয়েছিল। অথচ সেই ঐতিহ্যকে পশ্চিমবঙ্গে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি।”

২১ জুন রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল জাতীয় অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। তার আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য কার্যত যোগ দিবসকে কেন্দ্র করে বিজেপি বনাম তৃণমূল রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না মিললেও বিজেপির অভিযোগ, পূর্বতন সরকার আদর্শগত কারণে যোগ দিবসকে কখনও গুরুত্ব দেয়নি। অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা যুক্তি হতে পারে, স্বাস্থ্যচর্চা ও যোগকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি।
–
