দুপুর গড়াতেই আকাশজুড়ে নামল ঘন কালো অন্ধকার। তার পরেই প্রকৃতির এক অদ্ভুত এবং ভয়ঙ্কর রূপের সাক্ষী থাকলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর দ্বীপের বাসিন্দারা। বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ মহিষামারি এলাকায় হুগলি নদীর উপর আচমকাই তৈরি হল দুটি বিশাল জলস্তম্ভ বা ওয়াটার স্পাউট। মেঘভাঙা বৃষ্টির মাঝেই নদীর বুক চিরে ধেয়ে এল এই জোড়া টর্নেডো। এই নজিরবিহীন দৃশ্য দেখে গঙ্গার দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে নদীর জল কয়েক ফুট উঁচুতে লাফিয়ে উঠছিল। জলস্তম্ভ দুটি নদীর ওপর দিয়ে বেশ কিছুটা পথ এগিয়ে যায়। সেই সময় নদীতে থাকা বেশ কিছু ট্রলার এবং নৌকা চরম বিপদের মুখে পড়ে। প্রাণভয়ে মাঝিরা তড়িঘড়ি নৌকা নিয়ে পাড়ের দিকে ছুটে আসেন। নদীর দুই পাড়ে থাকা দোকানপাট এবং ঘরবাড়ির বাসিন্দারাও আতঙ্কে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, ঘূর্ণিঝড় দুটি শেষ পর্যন্ত ডাঙায় আছড়ে পড়েনি। নদীর ওপরেই বেশ কিছুক্ষণ তাণ্ডব চালানোর পর সেগুলি ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। ফলে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে উপকূলবর্তী এলাকা।
আবহাওয়াবিদদের মতে, একই সঙ্গে এমন জোড়া টর্নেডো বা ওয়াটার স্পাউটের দেখা মেলা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। মূলত তীব্র গরম এবং বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার জেরে স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া গভীর বজ্রগর্ভ মেঘের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে আগামী কয়েক ঘণ্টা নদীর পাড়ে থাকা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন- চার বছরের মাথায় ফের ‘মহা-ভাঙন’! দল ছাড়ার মুখে উদ্ধবের ৬ লোকসভা সাংসদ
_
_

_

_

_

_

_

