অবিলম্বে বন্ধ হোক হকার উচ্ছেদ-হিংসা: মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিধানসভার বৈঠকে দাবি শোভনদেব-কুণালদের

Date:

Share post:

তিন দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর (CM Suvendu Adhikari) সঙ্গে দেখা করে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়ে এলেন পাঁচ বিধায়কের প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় হওয়া এই বৈঠকে প্রতিনিধি দলে ছিলেন, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অশোক দেব, মদন মিত্র, আব্দুর রহিম বক্সি ও কুণাল ঘোষ। স্পষ্ট ভাষায় তিনটি দাবি তুলে ধরেন পাঁচ বিধায়ক। এক, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ নয়। আগাম জানিয়ে, নোটিশ দিতে হবে, বিকল্প ব্যবস্থাও করতে হবে। দুই, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা ও সন্ত্রাস অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিন, রাজ্য জুড়ে চলছে প্রতিহিংসার গ্রেফতারি। এই অনৈতিক কাজ ও পুলিশি অত্যাচার সুস্থ শাসন ব্যবস্থায় চলতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রী পদক্ষেপ করুন।

বিধানসভা ভবনে দুপুর পৌনে বারোটা নাগাদ এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের শুরুতেই বিধায়কদের পক্ষে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়, হকার উচ্ছেদের কারণে গরিব খেটে খাওয়া মানুষের জীবন-জীবিকা ধূলিস্যাৎ। তারা আজ পথে এসে বসেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেলের সঙ্গে রাজ্য যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। চেষ্টা হচ্ছে আচমকা যেন উচ্ছেদ না হয়। পাশাপাশি তিনি প্রতিনিধি দলের দাবিকে মান্যতা দিয়ে জানান, তিনিও বিরোধীদের সঙ্গে সহমত। রাজ্য সরকার আগামিদিনে আর বুলডোজার চালাবে না। প্রতিনিধিরা আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কিছু দখলদারি তোলা বাধ্যতামূলক থাকে। কিন্তু সেক্ষেত্রেও আগাম জানানো হোক। প্রয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলা হোক। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই কাউন্সিলরদের কাছে মানুষ দরবার করছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বুলডোজার চলবে না। রেলের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে রাজ্য। আরও পড়ুন: দিল্লিতে খুন বাঙালি মহিলা পরিচারিকা

প্রতিনিধিরা বলেন, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উপর পরিকল্পিত হামলা হচ্ছে। অনেককেই নানা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। যেগুলি রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য করা হচ্ছে, মূলত সেগুলি নিয়েই তাঁরা কথা বলেন।

প্রতিনিধি দলের সাংবাদিক সম্মেলনে বিধায়ক কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি, চা-বিস্কুট খাইয়েছেন। দিল্লিতে গ্যারাজের ভিতরে কিংবা বিধানসভায় স্পিকারের ঘরের বাইরে লাইন দিয়ে অপেক্ষা করতে হয়নি আমাদের। ব্যাক ডোর দিয়ে কিছু হয়নি। মাথা উঁচু করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়েছি, নির্দিষ্ট বিষয়ে কথা বলে এসেছি।
কুণাল জানান, আমাদের বিধায়কদের বসার জায়গা নিয়েও কথা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাঝেই পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষকে ডেকে নেন। তাঁকে বলেন বিধায়কদের বসার জায়গাটি দেখতে। সঙ্গে দলের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে জানতে চাওয়া হয়, বিধায়করা বিধানসভায় বলবেন কীভাবে? সময় কীভাবে দেওয়া হবে? পদের জন্য যারা দলের সঙ্গে গদ্দারি করেছে, তাদের কাছে সময় চাওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী তাদের দাবিকে মান্যতা দিয়ে জানিয়ে দেন, বিধানসভায় বলার জন্য আলাদা সময় দেওয়া হবে। পরিষদীয় মন্ত্রীকে সেইমতো ব্যবস্থাও নিতে বলেন। দলের এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন শোভনদেব, মদন, কুণাল ছাড়াও ছিলেন রুকবানুর রহমান ও আলিফা আহমেদ।

spot_img

Related articles

হুগলি নদীতে আচমকা জোড়া টর্নেডোর তাণ্ডব! বরাতজোরে রক্ষা পেলেন মৎস্যজীবীরা

দুপুর গড়াতেই আকাশজুড়ে নামল ঘন কালো অন্ধকার। তার পরেই প্রকৃতির এক অদ্ভুত এবং ভয়ঙ্কর রূপের সাক্ষী থাকলেন দক্ষিণ...

চার বছরের মাথায় ফের ‘মহা-ভাঙন’! দল ছাড়ার মুখে উদ্ধবের ৬ লোকসভা সাংসদ

এবার লোকসভায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়লেন উদ্ধব ঠাকরে। শিবসেনার (ইউবিটি) ৬ জন লোকসভা সাংসদ সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করে...

রাজ্যে আরও ৪টি মেডিক্যাল কলেজ, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতিতে নয়া পদক্ষেপ

রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবা ও মেডিক্যাল শিক্ষার (West Bengal Health Department) ক্ষেত্রে নয়া পদক্ষেপ নবান্নের। কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর...

মেটার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে প্রীতি জিন্টা

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই (AI)-এর অপব্যবহার রুখতে এবং ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বজায় রাখতে এবার আইনের দ্বারস্থ বলি অভিনেত্রী তথা...