উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে নবান্নে (Nabanna) সাংবাদিক বৈঠক সারলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikari)। তিনি জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোর ৫টা থেকেই তিনি প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। পাহাড়ের পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্য সরকার দ্রুত কাজ করেছে বলেও জানান তিনি। হাসিমারা চা বাগান এলাকায় ৪ বছরের শিশুমৃত্যুর ঘটনাকে দুঃখজনক বলে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে ৪ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরবঙ্গে রাতভর প্রবল বৃষ্টির জেরে লেবং কার্টরোড ও মিরিকের গয়াবাড়ি-সহ বেশ কিছু জায়গায় ছোট-বড় ধস নেমেছে। শিলিগুড়ি আর দার্জিলিং-এর বেশ কিছু এলাকায় রেকর্ড ২৪০.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় সড়কের যেখানে যেখানে ধস নেমেছিল, প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। আরও পড়ুন: জনকল্যাণ শিবিরে কতজনকে পরিষেবা, পরিসংখ্যান প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

স্থানীয় সাংসদ রাজু বিস্ত-সহ এলাকার বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিরা (MLA, MP) ইতিমধ্যেই বন্যায় বিধ্বস্ত এলাকাগুলো ঘুরে দেখছেন। বিপজ্জনক জায়গা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালের দুর্যোগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই কিছু সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি পাহাড়ে ধসের পূর্বাভাস পাওয়ার জন্য একটা অত্যাধুনিক ‘অ্যালার্ট সিস্টেম’ চালু করারও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

অতিবর্ষণে বালাসনের জলের তোড়ে দুধিয়ার অস্থায়ী সেতুটি পুরোপুরি ভেসে গিয়েছে। এর ফলে শিলিগুড়ি-মিরিকের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ। তবে কয়েকমাস আগে তৈরি ব্রিজ এত কম সময়ে কীভাবে ভেসে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটা উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আপাতত ওই রাস্তা দ্রুত ঠিক করতে PWD ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। ঠিক হতে ৪-৫ দিন সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

হাওয়া দফতরের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত পাহাড়ে দুর্যোগের ভয় থাকছে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। শনিবার জলপাইগুড়ি আর আলিপুরদুয়ারে ভারি বৃষ্টির জন্য ‘লাল সতর্কতা’ (Red Alert) জারি করা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে নদীর জলস্তর বাড়তে পারে এবং নিচু এলাকাগুলো ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ১০টি জেলাতেও রবিবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় ‘হলুদ সতর্কতা’ (Yellow Alert) জারি করা হয়েছে।

–

–

–
–
–
