কলকাতা শহর থেকে এবার সম্পূর্ণ মুছে যাবে মুঘল এবং ব্রিটিশদের নাম। রাজ্যপালের ভাষণের জবাবি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধানসভার অন্দরে দাঁড়িয়ে এই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন রাস্তা ও এলাকার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘নামকরণ মূল্যায়ন কমিটি’ও গড়ে দিয়েছেন তিনি। যার নেতৃত্বে থাকছেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত, পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দজি মহারাজ, যিনি কার্তিক মহারাজ নামেই পরিচিত।

ইতিহাস না জেনেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নাম বদলের অভিযান শুরু করতে চাইছে বিজেপি সরকার। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে কলকাতার সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ। বিধানসভায় জবাবি বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সুরাবর্দির নাম তো থাকবে না! থাকবে না।” তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রকৃত দেশভক্ত ও রাষ্ট্রভক্তদের নামে রাস্তার নামকরণ হওয়া উচিত। কিন্তু এর পরেই ইতিহাসবিদরায প্রশ্ন তুলেছেন— মুখ্যমন্ত্রী আদৌ জানেন কি, সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ কার নামে?

সমালোচকদের দাবি, কলকাতার সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে নয়, উনিশ শতকের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, পণ্ডিত ও ধর্মচিন্তক মওলানা ওবায়দুল্লাহ আল ওবায়দী সোহরাওয়ার্দীর নামে নামকরণ করা হয়েছিল। তিনি ‘বাহার-উল-উলূম’ উপাধিতে ভূষিত ছিলেন এবং বাংলার শিক্ষা ও বৌদ্ধিক জগতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।

বিরোধীদের অভিযোগ, একটি রাস্তার নামের ইতিহাস যাচাই না করেই মুখ্যমন্ত্রী সেটি তুলে দেওয়ার কথা বলেছেন। তাদের কটাক্ষ, ‘‘যে ব্যক্তির নামে রাস্তার নাম, তাঁর পরিচয়ই জানা নেই। অথচ নাম মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।’’ এটি শুধুমাত্র একটি রাস্তার নাম নিয়ে বিতর্ক নয়। বরং বিজেপির বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রকল্পের অংশ, যেখানে ইতিহাসকে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয়ের চশমায় দেখা হচ্ছে। বিরোধীদের বক্তব্য, কোনও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের অবদান বিচার না করে শুধুমাত্র নাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা ইতিহাস চর্চার জন্য বিপজ্জনক নজির হয়ে দাঁড়াবে।

আরও পড়ুন- আর জি কর-কাণ্ডে বিচারের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর, বিধানসভায় কেঁদে ফেললেন অভয়ার মা

_

_

_
_
_
_
