দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে নতুন আইন আনার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাবি বক্তৃতায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বেআইনি উপায়ে গড়ে ওঠা সম্পত্তি সরকার অধিগ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করবে। সরকারের এই পদক্ষেপ দুর্নীতি দমনে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেশে ইতিমধ্যেই পর্যাপ্ত বিদ্যমান আইন রয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি), আয়কর দফতর কিংবা রাজ্যস্তরের দুর্নীতি দমন শাখার মাধ্যমে বেআইনি সম্পত্তি সংযুক্ত বা বাজেয়াপ্ত করার আইনি ব্যবস্থা নতুন কিছু নয়। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আলাদা করে আবার নতুন বিল আনার প্রয়োজন কেন পড়ল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
বিরোধীদের একাংশের আশঙ্কা, এই নতুন আইন আসলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। কারণ, কোনও সম্পত্তি ‘দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত’ বলে চিহ্নিত করার চূড়ান্ত ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, তার আইনি প্রক্রিয়া ঠিক কী হবে এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে সরকার নিজে থেকে কতটা হস্তক্ষেপ করতে পারবে— সেই সব জরুরি প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তার পাশাপাশি একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও ছিল। বিশেষ করে পাথর খাদান দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে একের পর এক আক্রমণের পর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিলের ঘোষণা নিছক প্রশাসনিক পদক্ষেপের গণ্ডি ছাড়িয়ে বড়সড় রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি করেছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, সরকার যদি নির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে নিশ্চিতই হয়, তাহলে বিদ্যমান আইনের আওতায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার উদ্যোগই কি বেশি কার্যকর ও যুক্তিযুক্ত ছিল না? নতুন আইন আনার এই ঘোষণার ফলে কি আইনি লড়াইয়ের চেয়ে রাজনৈতিক সংঘাতের পারদ আরও তীব্র হবে?
আরও পড়ুন- আর জি কর-কাণ্ডে বিচারের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর, বিধানসভায় কেঁদে ফেললেন অভয়ার মা
_
_

_

_

_

_

